দেশজুড়ে

হোটেল ওয়েটারকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সাংবাদিক কারাগারে

গাজীপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কাজী রফিক নামের এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার তাকে গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, কাজী রফিক টঙ্গীর কালীগঞ্জ রোডে ফোরস্টার আবাসিক হোটেল জাবানে গিয়ে হোটেলের নারী কর্মীদের কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। তার অত্যাচারে ইতোপূর্বে কয়েকজন নারীকর্মী চাকরি ছেড়ে চলে চেতে বাধ্য হন। গত শনিবার রাতে কাজী রফিক অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হোটেলে থাকতে যান। রাত আড়াইটার দিকে হোটেলের ৮ম তলার রেস্টরুমে কর্মরত একজন ওয়েটারকে (২০) কুপ্রস্তাব দিয়ে হাত ধরে টানাটানি শুরু করেন। তার হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই ওয়েটার হোটেলের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

ওসি আরও জানান, ভোর পৌনে ৫টায় ওই ওয়েটার ডিউটি শেষে বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে কাজী রফিক দোতলায় গিয়ে মেয়েটিকে একা পেয়ে জাপটে ধরেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওয়েটারের চিৎকারে হোটেলের অন্যা স্টাফরা এগিয়ে এলে কাজী রফিক তাদের ওপর চড়াও হন এবং সোহেল ও রাকিব নামে দুজন স্টাফকে কিল-ঘুষি দিয়ে আহত করেন।

এ সময় সব স্টাফ একত্রিত হয়ে কাজী রফিককে ধরে উত্তম মাধ্যম দেন। পরে থানায় খবর দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ওই ওয়েটার বাদী হয়ে কাজী রফিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কাজী রফিক নিজেকে বড় সাংবাদিক ও টঙ্গীর ডন দাবি করে হোটেলে গিয়ে প্রায়ই নারী কর্মীদের উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন। তার অত্যাচারে ইতোপূর্বে কয়েকজন নারীকর্মী হোটেলের চাকরি ছেড়ে চলে যান।

স্থানীয়রা জানান, হোটেল জাবানে নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই হোটেলটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেলে মাদকের (বার) আড্ডায় অভিজাত শ্রেণির যুবক-যুবতীদের নিয়মিত আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মূলত মাদকের কারবার ও অসামাজিক কাজের জন্যই হোটেলটি চালু করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে পতিতা ও খদ্দেরসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠান।

মোঃ আমিনুল ইসলাম/এএম