গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীতে একটি ফ্যান কারখানার হিট চেম্বার বিস্ফোরণ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকার ন্যাশনাল ফ্যানস লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২১ জন আহত।
নিহতরা হলেন-কারখানার পেইন্ট সেকসনের শ্রমিক সামসুল হক (২০) তার বাবার নাম সাহেব আলী। তিনি টঙ্গী টিঅ্যান্ডটি পশ্চিম পাড়া এলাকায় হিরু মিয়ার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকেন। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা এলাকার গড়বাজাইল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে তাইজুল ইসলাম (১৮)। তিনি টঙ্গীর আরিচপুর এলাকায় সবুরের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
বিষ্ফোরণে হতাহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ৯ জনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করে ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর বাকি ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আহত শ্রমিকরা হলেন- রিপন (১৮), কবির (২৫), সাজ্জাদ (১৭), রাসেল (১৮), রাইয়ান খান (২৫), রিমন (২১), লালচান (২৫), মোশারফ (১৮), তানজিনা (২২), সালমা (১৮), কাকলী (২০), রণি (২৫), আসিফ (১৮), আতিকুল মির (২০), আকতারা (৪০). আকাশ (১৮), আলমগীর (২০), বাবু (১৮), পিরন (১৮), ঝর্ণা (৫০) ও তাইজুদ্দিন (৩৫)।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, বিস্ফোরণে নিহতদের দাফন কাজ সম্পন্ন করার জন্য ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
কারখানার শ্রমিকদের বরাত দিয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, সকাল ৮টার দিকে কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। বেলা সাড়ে এগারটার দিকে কারখানার দুতলায় অবস্থিত পেইন্ট সেকসনের হিট চেম্বারে বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে হিট চেম্বারটির বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাইজুল ও সামসুল হক মারা যায় এবং ওই সেকসনে কর্মরত অন্তত ১০-১২ জন শ্রমিক আহত হন।
মো. আমিনুল ইসলাম/আরএ/পিআর