গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় হিট মেশিন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত শ্রমিক তাইজুল ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম।
অপরদিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি সকালে কারখানার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। কারখানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার পর্যন্ত কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করেছে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে উপ-মহাপরিদর্শক কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আসাদুজ্জামান, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আমীরুল আলমসহ অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত দল কারখানার বিস্ফোরণস্থল ঘুরে ঘুরে দেখেন ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপস্থিত কারখানার শ্রমিকরা জানান, কয়েক যুগ ধরে চলা ফ্যান কারখানাটিতে এ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছিল। মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
তারা আরও বলেন, হিট চেম্বারটি মূলত ফ্যানের যন্ত্রাংশে দেয়া কাঁচা রং পাকা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। কারখানাটিতে অনেকগুলো হিট চেম্বার রয়েছে। এগুলোর একটিতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। কারখানায় সাড়ে ৫শ’ শ্রমিক বিভিন্ন শিফটে নিয়মিত কাজ করছে।
বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণ ঘটনার পর তছনছ হয়ে যাওয়া আলামত সমূহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য পুলিশ কারখানার প্রবেশ পথগুলো তালা দিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ মেইন গেটে নোটিশ টাঙ্গিয়ে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। শ্রমিক কর্মচারী ও মালিক পক্ষ নিহত ও আহতদের সমবেদনা জানিয়ে প্রধান ফটকে শোক ব্যানার টাঙ্গিয়েছেন।
টঙ্গী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, টঙ্গীর বিসিক এলাকায় ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় হিট মেশিন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং কমপক্ষে ২৫জন আহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি দুর্ঘটনাজনিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ওই কারখানায় মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে কারখানায় স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও আলামত সমূহ জব্ধ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান বলেন, বয়লার পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকলেও লোকবল কম এবং হিট চেম্বার পরিদর্শনে কোনো ব্যবস্থা শিল্প আইনে নেই। এটা তাদের নিজস্ব কারিগরি ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীর ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় তৃতীয় তলায় হিট মেশিন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার গড়বাজাইল এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে তাইজুল ইসলাম (১৮), নেত্রকোনা সদর থানার নাড়িয়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে সামসুল হক (২০) ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার সমর আলীর ছেলে লাল চান (২০)।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম