নওগাঁকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং বেকার যবুকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি পুকুর, নদী ও ডোবায় মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতনরা।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকের বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ২০ দিন নিয়ামতপুর ও নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। তখন নওগাঁকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায়’ এসে তিনি সদর উপজেলার উল্লাসপুর দক্ষিণপাড়ার পাঁচ ভিক্ষুককে ১০টি করে মুরগি ও এক মাসের সংসার খরচ বাবদ নগদ এক হাজার টাকা এবং চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, তেল ইত্যাদি বিতরণ করেন। এছাড়া বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বেকারদের কর্মসংস্থানে হাঁসের খামারের উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং বেকার যবুকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি পুকুর, নদী, ডোবা ও জলাশয়ে হাঁস পালন এবং মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভিক্ষুকসহ কয়েকশ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
পুকুর পাড়ে ভিক্ষুকদের বসবাসের জন্য ঘর করে দেয়া হয়েছে। তাদের কাজ পুকুর ও হাঁস দেখাশুনা করা। আর বেকার যুবকরা পুকুরে খাবার দেয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজ করবে। এখান থেকে আয়ের অংশ সবাই মিলে ভাগ করে নেবে। তাদেরকে নিয়মিত তদারকি করবেন ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশ।
নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসানুল আল মামুন বলেন, সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলশীগঙ্গা নদী দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কারের অভাবে কচুরিপানা জমে নাব্য হারাতে বসেছিল। ফলে প্রতি বছর আগাম বন্যার কারণে নদীর আশপাশের গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দু’মাস আগে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৫ কিলোমিটার পরিষ্কার করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে ওই নদীতে ২৫ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন ভিক্ষুক ও ৫ জন বেকার। সেখানে তাদের জন্য ৫শ হাঁস দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাছ চাষেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৬ হাজারের অধিক ভিক্ষুক আছে। ইতোমধ্যে জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিক্ষুকদের জন্য ছোট ছোট প্রকল্প তৈরি করে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলার সকল সরকারি কর্মচারিদের কাছ থেকে একদিনের বেতন অনুদান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা লক্ষ্য রাখছি এটা যেন কোনো ব্যক্তিনির্ভর না হয়। এটা যেন টিকে থাকে।
তিনি বলেন, পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০ জন এবং সদর উপজেলাগুলোতে ১০ জন করে টার্গেট দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভিক্ষুককে বিভিন্ন রকম কর্মসূচির সাহায্যে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, নওগাঁকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে আমার বেতনের টাকা দান করি। সে টাকা দিয়ে একটি হিসাব নম্বর খুলে কয়েক মাসের ব্যবধানে সেখানে প্রায় ৭০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। সেখানে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া সরকারিভাবে আরও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ওই হিসাব নম্বরে শিগগিরই জমা হবে। এতে একদিকে সমাজ যেমন ভিক্ষুকমুক্ত হবে, অপরদিকে অভিসপ্ত ও অসমাপ্ত জীবন থেকে রক্ষা পাবে।
আব্বাস আলী/এফএ/এমএস