দেশজুড়ে

জীবনের লাশ পড়ে রয়েছে রংপুর মেডিকেলে

গণপিটুনির শিকার জীবন মিয়া (২৩) এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার রাত ১২টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার।

নিহতের মামাতো ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ে ছিল।

এ ঘটনায় জীবনের বাড়ি উলিপুর উপজেলার জুম্মারহাট গ্রামে চলছে শোকের মাতম। কুড়িগ্রামে চাঞ্চল্যকর ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনতাই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জীবন মিয়া।

জীবন মিয়ার চাচা মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক এই প্রতিবেদককে জানান, আমার ভাতিজা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার জন্য আদালত ছিল। বিচার বিভাগ ছিল। তারাই বিচার করতো। এভাবে পিটিয়ে মানুষ হত্যা আমরা মেনে নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, লাশের ব্যাপারে পরিবার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমার ছোট ভাই অসুস্থ মোসলেম উদ্দিনকে ছেলের মৃত্যুর খবর এখন দেয়া হয়নি। লাশ পেলে তারপর সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘মতি স্টিল’ হাউজের কর্মচারী আব্দুল খালেক দোকানের ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা দোকান মালিকের স্ত্রী ফিরোজা আহম্মেদের হাটির পাড়াস্থ বাড়িতে দিতে যায়। এসময় জীবন মিয়া টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে ওই এলাকায় অবস্থিত হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছনে সঙ্গী রাশেদা বেগমের বাড়িতে ব্যাগ রেখে পালাতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়। এসময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকেসহ সহযোগী রাশেদা বেগম ও তার ছেলে আশরাফুল ইসলামকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুরো টাকা রাশেদার ড্রইং রুম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম কারাগারের জেলার উমর ফারুক জানান, আহত অবস্থায় আসামি জীবন মিয়াকে কারাগারে নিয়ে আসা হলে তাকে জেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় রংপুর কারাগারের মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

মামলার বাদী আব্দুল খালেক জানান, জীবনকে তিনি চিনতেন না। টাকার ব্যাগ ছিনতাই হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন জীবনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে টাকাও উদ্ধার হয়। আমার প্রতিষ্ঠানের মালিক বাদল আহম্মেদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার নির্দেশে মামলার এজাহারে স্বাক্ষর করি। মামলার এজাহারে কী লেখা আছে আমার জানা নেই।

নাজমুল/এমএএস/পিআর