জাতীয়

কুষ্টিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার হত্যায় জড়িতরা ছাড় পাবে না : আইনমন্ত্রী

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদ শাহকে কুপিয়ে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

নূর মোহাম্মদ শাহকে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। শোকবার্তায় নূর মোহাম্মদ শাহের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন মন্ত্রী। সেইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী রোডের বাড়িতে ঢুকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদ শাহকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাত ১১টার দিকে শহরের বাবর আলী গেট সংলগ্ন ভাড়া বাসার রান্না ঘর থেকে গামছা দিয়ে হাত-পা বাঁধা মারাত্মক জখম অবস্থায় নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, চাকরির সুবাদে শহরের বাবর আলী গেট সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একাই বাস করতেন নূর মোহাম্মদ। সোমবার রাত ১১টার দিকে সিঁড়িতে মানুষের দৌড়ানোর শব্দ শুনে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় কয়েকজনকে তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। তারা সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদের ঘরে গিয়ে দেখেন হাত-পা বাঁধা মারাত্মক জখমভাবে তিনি মেঝেতে পড়ে আছেন।

সদর ফাাঁড়ির ইনচার্জ সন্তু বিশ্বাস জানান, রাত ১১টার দিকে বাড়ির মালিক হানিফ আলী পুলিশকে ফোন করে জানান- সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে আছেন। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবুল হাসান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই নূর মোহাম্মদের মৃত্যু হয়। তার দুই হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন আছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে দেখা হচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগিরই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

নিহত নূর মোহম্মদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।

এমইউ/জেডএ/আরআইপি