ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর এলাকার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শাস্ত্রমতে, দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিনে এক থেকে ১৬ বছরের কোনো অবিবাহিত কুমারী কন্যাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এই পূজায় রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে ঢল নামে মানুষের।
বুধবার বেলা ১১টায় ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে এই পূজা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টা ৪৫ মিনিটে। এবারে মালিনী রূপে যে কুমারী দুর্গা মা হিসেবে পূজিত হন তার নাম জয়িতা চক্রবর্তী। সে শহরের আলীপুর নিবাসী দেব চক্রবর্তী ও তনুশী চক্রবর্তী দম্পতির মেয়ে। জয়িতার বয়স সাত বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। কুমারী পূজার পুরোহিত ছিলেন নিলয় চক্রবর্তী।
জয়িতা চক্রবর্তীর বয়স সাত বছর। তাই শাস্ত্রমতে তার নামকরণ করা হয়েছে মালিনী। রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সকাল থেকে কুমারী পূজা দেখার জন্য নানা বয়সের সব ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের ভিড় জমে।
এছাড়া সকালে জেলার নয় উপজেলার ৭৬০টি মণ্ডপে মহা অষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মণ্ডপে উপোস থেকে ভক্তরা দুর্গা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন।
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কুমারী পূজার পুরোহিত নিলয় চক্রবর্তী বলেন, ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ৭ম বারের মতো এবার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হলো। শাস্ত্রমতে, কুমারী নির্বাচন করে বয়স অনুযায়ী তাকে নাম দিয়ে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এজন্য নির্বাচিত কুমারীকে বিভিন্ন আচার-নিষ্ঠা মেনে চলতে হয়।
পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিনটি বুধবার। সকালে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় রয়েছে দেবীর সন্ধ্যা পূজা।
এএম/আরআইপি