কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর হঠাৎ মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো গানের দল ‘সোলস’র সদস্য পার্থ বড়ুয়া বলেছেন, কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। আমাকে তৈরি করেছেন। গিটার শিখিয়েছিলেন। গান করতে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন।’
হাসপাতালে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ দেখতে এসে এভাবেই বলছিলেন তিনি। ‘কখনোই ভাবিনি তিনি এভাবে হঠাৎ করে চলে যাবেন। ওনার মতো গিটারিস্ট আর আছে কি না আমার জানা নাই। সংগীতাঙ্গন একটি সম্পদ হারালো। বাচ্চু ভাইয়ের মতো শিল্পী আর বাংলাদেশে আসবে কি না সন্দেহ আছে’, - বলেন পার্থ বড়ুয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আইয়ুব বাচ্চু। এদিন সকালে অজ্ঞান অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসকরা কৃত্রিমভাবে কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর এর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠের প্রথম গান- ‘হারানো বিকেলের গল্প’। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।
১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তার জীবনে সফলতা বয়ে না আনলেও ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ তার জীবনে সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।
তিনি একাধারে গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সংগীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।
এআর/জেডএ/জেআইএম