দেশজুড়ে

ঘুষ নিয়েও চাকরি দিলেন না এমপির ভাই

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের ভাই গালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুল হক কামাল পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েও চাকরি দেননি।

রাজাপুর উপজেলার কানুদাশকাঠি গ্রামের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ইভা সুলতানাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাসপাতালে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে এই ঘুষ নেন তিনি। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, রাজাপুরের কানুদাশকাঠি গ্রামে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থিত ইসলামিক মিশন হাসপাতালে কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। এমপির ভাই ও রাজাপুরের গালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক কামাল ওই পদে আমার স্ত্রী ইভা সুলতানাকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এমপির মেজো ভাইয়ের ছেলে ফাহিম আকনের কাছে এই টাকা দিতে বলেন কামাল। তার কথা অনুযায়ী তিন দফায় ফাহিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দেই। পরবর্তীতে ওই পদে আমার স্ত্রীকে চাকরি না দিয়ে স্থানীয় মারুফ আকন নামে এক যুবককে চাকরি দেয়া হয়।

চাকরি না পেয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে মুজিবুল হক কামাল ও তার ভাইয়ের ছেলে ফাহিম আকন নানাভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি এমপি বজলুল হক হারুনকে জানালে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

পরবর্তীতে ওই টাকা চাইতে মুজিবুল হক কামালের বাসায় যাই। সেখানে গেলে বাবা-মা-স্ত্রী ও আমাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেন কামাল। সেইসঙ্গে আবার টাকা চাইতে এলে মামলার হুমকি দেন তিনি। তাই নিরুপায় হয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন করেছি।

জিয়াউর রহমান বলেন, জমি বিক্রি এবং ধারদেনা করে কামাল সাহেবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তার ভাইয়ের ছেলে ফাহিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি। তারা আমার স্ত্রীকে চাকরি না দিয়ে গ্রামের অন্য একটি ছেলেকে দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা এখনো ফেরত দেননি। আমরা গরিব বলে টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি সুবিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপির ভাই গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুল হক কামাল বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যা।

আতিকুর রহমান/এএম/এমএস