মাদকের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগান নিয়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার সন্তান আরিফুর রহমান কনক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে তিনি টেকনাফ জিরো পয়েন্টে পৌঁছান। গত ১২ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি এ যাত্রা শুরু করেছিলেন।
আরিফুর রহমান কনক নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাজামালঞ্চি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। তার এ যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাগাতিপাড়ার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আরিফুল মুঠোফোনে জানান, মাত্র ৩৫ দিনে পায়ে হেঁটে প্রায় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এ সফল যাত্রায় তিনি প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ হাঁটতেন। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে মাগরিবের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত হেঁটেছেন। প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিতেন। রাতে যেখানে হাঁটা বন্ধ হয়ে যেত ওই এলাকায় পরিচিত কারও বাসায় উঠে যেতেন। আর সেরকম কাউকে না পেলে নিজ খরচে হোটেল ভাড়া করে রাত্রী যাপন করতেন।
তিনি বলেন, তার হাজার কিলোমিটার পথ চলায় যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে আসে সেটাই হবে তার বড় পাওয়া।
পথিমধ্যে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পথ-ঘাট, চায়ের দোকান, বাজারসহ জনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষদের মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন মহল তার এই কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়ে তাকে উৎসাহ যুগিয়েছে।
আরিফুর রহমান কনক রাজশাহী পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৭ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ১৯ বছর মাদক সেবন করেন। তিনি দুবাইয়ে সাড়ে তিন বছর, সিঙ্গাপুরে এক বছর ও সৌদি আরবে পাঁচ বছর চাকরি করেছেন।
বিদেশ থেকে এসেও মাদক সেবন করতেন তিনি। গত দুই বছর আগে তার বাবা মারা যান। তারপর থেকে কমতে থাকে কনকের মাদক সেবন। চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় সন্তান জন্মের ৩ দিন পর মারা যায়। এরপর থেকে মাদক সেবন বন্ধ করেন কনক।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পায়ে হেঁটে বাগাতিপাড়ার সন্তান আরিফুর রহমান কনকের এ যাত্রা প্রশংসার দাবিদার।
রেজাউল করিম রেজা/এফএ/পিআর