দেশজুড়ে

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ লতিফ সিদ্দিকীর

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে সরকার দলীয় প্রার্থী হাছান ইমাম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। বুধবার কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার অমিত দেবনাথের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, প্রার্থীদের আচরণ বিধি মেনে চলার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। এতে আমি বিব্রত কিংবা বিপন্ন নই বরং ক্ষুব্ধ। আর এ অভিযোগ শুনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার অমিত দেবনাথ নীরব থাকেন।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি মিছিল দেখেননি? স্লোগান শোনেননি? মাইকের শব্দ পাননি? ১০ তারিখের আগে তো এসব নিষিদ্ধ’।

মনোনয়নপত্র দাখিল করে বেরিয়ে এসে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে একটি সু-শৃঙ্খল নির্বাচন চান। কারণ একটি দেশের জাতীয় মর্যাদা নির্ভর করে জাতীয় নির্বাচনের উপর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলেও স্থানীয় কিছু লোকজন এমন অপকর্ম করেছে যে কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগের লোকেরাই আমাকে নির্বাচন করতে বাধ্য করেছে।

এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন মনোনয়নপত্র জমা দিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে যান। এ সময় কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে বর্তমান এমপি হাছান ইমাম খাঁন সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেসময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার অমিত দেবনাথ সরকার দলীয় এমপি হাছান ইমাম খাঁনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপে বিএনপি প্রার্থী বাধ্য হয়ে কক্ষের বাইরে চলে যান।

পরে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার দলীয় প্রার্থী হাছান ইমাম খাঁনের বারবার নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, আচরণ বিধির বিষয়গুলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিসা আক্তার দেখভাল করবেন। এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার কোনো কথা বলেননি।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে সিদ্দিকী পরিবারের তিন ভাইসহ মোট ১১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরা হলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (স্বতন্ত্র), আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), মো. হাছান ইমাম খান (আওয়ামী লীগ), ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), মো. লুৎফর রহমান মতিন (বিএনপি), ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল হালিম মিয়া (বিএনপি), বেনজির আহমেদ (বিএনপি), মো. শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), সৈয়দ মোস্তাক হোসেন রতন (জাতীয় পার্টি-জেপি), খন্দকার মো. মোন্তাজ আলী (জাকের পার্টি), মো. আবুল কাশেম (স্বতন্ত্র) এবং মো. আব্দুল বারী (স্বতন্ত্র )।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি