দেশজুড়ে

বগুড়া-৭ আসন নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি

ভিআইপি আসনখ্যাত বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে কে করবে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে নেতাকর্মীরা। যাচাই-বাছাইকালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এ আসনটি এখন বিএনপির প্রার্থীশূন্য। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থীও নেই এখানে।

দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদা জিয়ার ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়াও সরকার বাদলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এতে দীর্ঘ ২৭ বছর পর বগুড়ার কোনো আসন থেকে জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থেকে বঞ্চিত হলো।

খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন জানান, তিনি আপিল করবেন। কারণ গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেই তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ কারণে আপিল করলে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহাম্মদ জানান, মামলায় সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় ধানের শীষের অপর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মোর্শেদ মিল্টনের পদত্যাগ করার কোনো ডকুমেন্ট তাদের হাতে এসে পৌঁছেনি। এখন আপিল শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বগুড়ার এই ভিআইপি আসনে শেষ পর্যন্ত আপিলেও ধানের শীষের প্রার্থী বৈধতা না পেলে কি হবে দলটির ভাগ্যে? বিকল্প কাকে সমর্থন দেয়া হবে? এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চাঁন। তারা বলেছেন- বিষয়টি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। দল যেভাবে নির্দেশনা দেবে নেতাকর্মীরা ঠিক সেভাবেই কাজ করবে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বেগম জিয়াসহ সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এখন যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির দুইজন এটিএম আমিনুল ইসলাম ও মুহাম্মদ আলতাফ আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির দুইজন ফজলুল হক এবং মন্তেজার রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের দুইজন রিয়াজুল মোর্শেদ ও শহিদুল ইসলাম এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মজিবর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে কাউকে ধানের শীষের সমর্থন দেয়ার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ১৯২৮ সালে লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশে সামরিক শাসন জারির পর সামরিক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দলীয় জোট। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের সময় পরপর দুটি নির্বাচন হলেও এরশাদের শাসনামলে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বারের মতো বগুড়া-৭সহ দেশের পাঁচটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। ষষ্ট, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে।

এবার বগুড়া-৬ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

লিমন বাসার/আরএআর/এমএস