পাবনায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে গুলিতে ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতদের স্বজনরা। সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের আওরঙ্গবাদ বাজার এলাকার কয়েকশ নারী ও পুরুষ এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়।
এলাকাবাসী এবং পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ ও জাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া সুলতান খাঁ গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের গুলিতে ২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। নিহতরা হলেন সুলতান খাঁর বাবা উপজেলার ভাউডাঙ্গা আওরঙ্গবাদ গ্রামের লস্কর খাঁ (৬৫) এবং একই গ্রামের আহেদ আলী শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫)। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এসময় নিহতদের স্বজন এবং এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে পাবনা অচল করে দেয়া হবে। এসময় সুলতান গ্রুপের নেতা ও নিহত লস্কর খাঁর ছেলে সুলতানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এছাড়া পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা খাতুন (৩০) ও হালিমা খাতুন (৫০) নামের ২ নারী। আহত অন্যরা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে নিহত লস্কর খাঁ এবং মালেক সেখের পরিবারে এখনও শোকের মাতম চলছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিকেল সোয়া ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত লস্কর খাঁ এবং মালেক সেখের দাফনের প্রস্ততি চলছিল। পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
একে জামান/এমএএস/আরআইপি