দেশজুড়ে

চিকিৎসা-পরামর্শ থেকে রুহুল হকের আয় ২৮ লাখ

সাতক্ষীরা-৩ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাইয়ে চার প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মোস্তফা কামাল।

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা আ ফ ম রুহুল হক সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন। মামলায় এগিয়ে রয়েছেন জামায়াত নেতা রবিউল বাসার আর সব থেকে স্বর্ণালঙ্কার বেশি বিএনপি প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রীর।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে এমপি নির্বাচিত হন ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

হলফনামায় আ ফ ম রুহুল হক উল্লেখ করেছেন, বছরে কৃষি খাত থেকে তার আয় ৮০ হাজার টাকা, বাসা ভাড়া থেকে আয় ৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৮ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৮৯ টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ১০৪ টাকা, চিকিৎসা পরামর্শ থেকে আয় ২৮ লাখ টাকা, সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী পান ২৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯০ টাকা, করমুক্ত গাড়ি বিক্রি করে আয় ৩ লাখ টাকা।

তার নগদ টাকা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর আছে ৭০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৪০৬ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩ টাকা, শেয়ার বাজারে আছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ কোটি ১০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৬ টাকা, স্ত্রীর নামে আমানত ৫৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৯৭ টাকা, যানবাহন থেকে ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, স্বর্ণ ৮০ হাজার টাকা, স্ত্রীর স্বর্ণ ৩ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৬০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র দেড় লাখ টাকা, কৃষি জমি ৫ একর, অকৃষি জমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আবাসিক/বাণিজ্যিক বাসা ১ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৬২ টাকা ও দুটি ফ্ল্যাট ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ টাকা ঋণ রয়েছে রুহুল হকের।

বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াত নেতা রবিউল বাসার। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের হলফনামায় জামায়াতের এই নেতা উল্লেখ করেছেন, তার নামে মামলার সংখ্যা ১৩টি যা বিচারাধীন ও তদন্তাধীন। বছরে কৃষি খাত থেকে আয় ৫০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে আয় ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ টাকা, নগদ টাকা ১০ হাজার টাকা, স্ত্রীর রয়েছে ২ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ২ লাখ এক হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে জমা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৫ টাকা, যানবাহন ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণ স্ত্রীর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, কৃষি জমি ১২৮ শতক, স্ত্রীর নামে ৩ একর, অকৃষি জমি ৫ শতক, স্ত্রীর নামে ২.৩ শতক এবং দোতলা বাড়ি।

বিএনপির প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন দাখিল করেছেন মো. শহিদুল আলম। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তার নামে মামলা রয়েছে একটি। মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, বছরে কৃষি খাত থেকে তার আয় ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, স্ত্রীর নামে বাসা ভাড়া থেকে আয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৫ টাকা, ব্যাংকে আমানত থেকে আয় ৪৭ হাজার ৩১৮ টাকা, স্ত্রীর আয় ৬৬ হাজার ৪৯৭ টাকা, চিকিৎসা পরামর্শ থেকে আয় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, চাকরি থেকে আয় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা, স্ত্রীর আয় ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৮ টাকা।

তার নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৭ টাকা, স্ত্রীর নামে জমা ৪৭ লাখ ৯২ হাজার ২০৮ টাকা, শেয়ার রয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৩ টাকা, স্ত্রীর নামে শেয়ার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫১ টাকা, একটি যানবাহন ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণ ২০ তোলা, স্ত্রীর ৪২ তোলা মূল্য ৯ লাখ ৮৩ হাজার ২৪০ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ৬ হাজার ৭০০ টাকা, আসবাবপত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্ত্রীর ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, কৃষি জমির পরিমাণ ২২৯.৫ শতক, অকৃষি জমি ২৫ শতক, বনানী ও ধানমন্ডিতে স্ত্রীর নামে বাড়ি রয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস