২০ দলীয় জোটের শরীক হিসেবে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তবে জোটগত মনোনয়ন পেলেও ধানের শীষ প্রতীক পাচ্ছেন না তিনি।
কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক হামিদুর রহমান আযাদকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া যাবে না। আইন অনুযায়ী তাকে স্বতন্ত্র প্রতীকই বরাদ্দ দেয়া হবে। অন্যদিকে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় আলমগীর ফরিদের মনোনয়নও বাতিল হয়ে গেছে। ফলে এ আসনের ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক থাকছে না।
তিনি আরও জানান, হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পত্র বাতিল হয়ে গেছে। তাই ইসির বিধি অনুযায়ী তাকে কোনো অবস্থাতেই এখন ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র দাখিলকারী আলমগীর ফরিদের পক্ষে দলের চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র আপনাআপনি বাতিল হয়ে গেছে। তাই কক্সবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেয়ার আর সুযোগ নেই।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই হামিদ আযাদ ও আলমগীর ফরিদ ২৩ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে আলমগীর ফরিদকে বিএনপির একক মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল। তখন হামিদ আযাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়নি। তবে জোটের শরীকদল হিসেবে জামায়াত হামিদ আযাদের জন্য এই আসনটি দাবি করে আসছিল। এই নিয়ে জোটের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে আলমগীর ফরিদ মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন ছড়ায়।
এ কারণে তার সমর্থকরা এলাকায় আনন্দ মিছিলও করে। কিন্তু দল বা জোটের পক্ষ থেকে কারো মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় শুরু হয় নাটকীয়তা। এতে দেশজুড়ে গত কয়েকদিন আলোচনায় ছিল এ আসনটি।
ইত্যবসরে হামিদ আযাদের বৈধ হওয়া মনোনয়ন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে দুটি রিটও হয়। সেই রিট খারিজ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন জোটগত চূড়ান্ত মনোনয়নও।
সূত্র মতে, আলমগীর ফরিদ ইতোপূর্বে পর পর দু’বার এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ জন্য তিনি এবারও দলীয় মনোনয়নের পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কারণ তিনি দল থেকে বাইরে থাকলেও মহেশখালীর সিংহভাগ বিএনপি নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছে।
উপরন্ত এ আসনে সরকারদলীয় বর্তমান এমপি আশেক উল্লাহ রফিক ভাতিজা হওয়ায় প্রশাসনিক ভাবেও হয়রানিমুক্ত ছিলেন আলমগীর ফরিদ ও তার অনুসারীরা। সেই সঙ্গে বিএনপি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় সবাই তার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিল।
অন্যদিকে হামিদ আযাদও নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আদালত অবমাননার দায়ে কারাগারে বন্দি থাকায় তার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ছিল। তিনি কারাগারে থাকলে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়া হবে না বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আলমগীর ফরিদের সম্ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে হামিদ আযাদকেই জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে জোটের মনোনয়ন পেলেও তিনি ধানের শীষ প্রতীক পাবেন না।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনী আমেজ কী হবে, তা দেখতে আরেও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএমজেড /এএইচ