দেশজুড়ে

চাচার মনোনয়ন বাতিলে ফুরফুরে মেজাজে ভাতিজা

কক্সবাজারের ৪টি আসনে প্রতীক পেয়েছেন দলীয় ও স্বতন্ত্র ২৮ প্রার্থী। তবে এদের মধ্যে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই মেতেছেন সাধারণ ভোটাররা। মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্রের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও। তাই উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি সব আসনেই টেনশনে রয়েছেন নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

কিন্তু কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান এমপি আশেক উল্লাহ রফিক সেদিক থেকে চিন্তামুক্ত রয়েছেন। এ আসনে শুরু থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ। সম্পর্কে তিনি আশেক উল্লাহ রফিকের চাচা। ভাতিজা নৌকায় আর চাচার ধানের শীষের খেলা কেমন জমে তা দেখার অপেক্ষায় ছিল রাজনৈতিক ও সাধারণ জনগণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলমগীর ফরিদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াত নেতা সাবেক এমপি হামিদ আযাদ। তবে তার মনোনয়ন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা করায় জোটের মনোনয়ন পেলেও ধানের শীষ প্রতীক পাননি তিনি।

একদিকে চাচার মনোনয়ন বাতিল অপরদিকে ২০ দলীয় প্রার্থীর ভাগ্যে ধানের শীষ প্রতীক নেই। তাই জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পাশাপাশি অন্যদলের প্রার্থী থাকলেও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চাচা-ভাতিজা প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকলে নৌকার হার নিশ্চিত ছিল। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (ইউপি নির্বাচন) তাদের বাড়ির পাশের দুটি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ১৬ ও ১৮ ভোট পেয়েছিলেন। জয় পেয়েছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিকের ভাই। এছাড়াও ভাতিজা সাংসদ হওয়ায় সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদসহ তার অনুসারী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিরাপদে সময় পার করেছে। বরঞ্চ বিরোধীদলের মতোই নিপীড়ন সয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ত্যাগীরা। এরা আলমগীর ফরিদ এমপি থাকাকালীনও মামলা-হামলার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু চাচা বিএনপির প্রার্থী মাঠে না থাকায় এখন তার অনুসারীরা জামায়াত প্রার্থীকে বয়কট করে ভাতিজার জন্য কাজ করবেন এমনি ধারণা তাদের।

মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ শাহজাহান বলেন, দল ক্ষমতায় থাকলেও সাংসদের ব্যক্তিগত আক্রোশে অবর্ণনীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছি গত ৫টি বছর। অথচ সাংসদের চাচা বিএনপির সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদ তার অনুসারীসহ রাজার হালে দিন কাটিয়েছেন। তিনি (আলমগীর ফরিদ) এবারও প্রার্থী থাকলে কেন্দ্রীয় নেতারা বুঝত নিজের কেন্দ্রেও অসহায় একজনকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখনও যে বেশি সুবিধা করতে দেবে তেমনটি মনে হয় না। এরপরও আমরা নৌকার পাল সমুন্নত রাখতে নিজেদের মতো করে কাজ করবো। এদিকে তফসিল অনুসারে সোমবার (১০ ডিসেম্বর) কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়েই জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থী-সমর্থকরা। ফলে জমে উঠতে শুরু করেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে মাইকিংয়ে সরগরম করে তুলেছেন পাড়া-গ্রাম ও শহর।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর