দেশজুড়ে

পাবনায় সুচিত্রা সেনের প্রথম ভাস্কর্য

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে পাবনায় তার পৈত্রিক বাড়িতে নির্মিত স্মৃতি আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকালে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, এটিই মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ওপর নির্মিত এপার বাংলাা ওপার বাংলার একমাত্র ভাস্কর্য। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ৮ ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। এটি ব্লাক সিমেন্ট ও স্টোন চিপস দিয়ে তৈরি। শিল্পী সঞ্জয় পাল ও রিঙকু অনিমিখের দক্ষ হাতের স্পর্শে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্যটি।

ভাস্কর্য সম্পর্কে শিল্পী রিঙকু অনিমিখ জানান, তিন ফুট উচ্চতার আবক্ষ ভাস্কর্যটি চার ফুট স্তম্ভের ওপর নির্মিত। মাটি থেকে এর উচ্চতা ৭ ফুট। এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে সুচিত্রা সেনের অবয়ব প্রকাশ করা হয়েছে।

উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহেদ পারভেজ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সহ-সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আখতারুজ্জামান আখতার, জেলা ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, পাঠশালা সভাপতি স্বাধীন মজুমদার, কন্ঠশিল্পী সুচিত্রা পূজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশ ভাগের পর সুচিত্রা সেনের পরিবার পাবনার গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের একতলা বাড়িটি ফেলে ভারতে যান। তার আগে সুচিত্রা সেন পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন বৈবাহিক কারণে যান ভারতে। সেই থেকে বাড়িটি পরিত্যাক্ত থাকে। পরবর্তীতে বাড়িটি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেয়া হলে সেটি তাদের দখলে থাকে। পরে পাবনার সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরাসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। বর্তমানে বাড়িটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সুচিত্রা সেনের সংগ্রহশালা হিসেবে রয়েছে। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা বাড়িটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন।

একে জামান/আরএআর/আরআইপি