দেশজুড়ে

গেলেন না শুধু জিএম কাদের

এমপি নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থ্যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের তিন প্রার্থী।

মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই শীর্ষক ‘জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে’ এ অঙ্গীকার করেন তারা।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী চার প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের আলোচনায় অংশ নেননি।

জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, বাসসের প্রার্থী আজমুল হক পাটোয়ারী পুতুল, ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রার্থী মোকছেদুল ইসলাম। জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট সুজন সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম কানু, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী রাজেস দে রাজু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সুজনের দেয়া নিবার্চনী প্রতিশ্রুতি সংবলিত কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রার্থীরা। এসব লিখিত প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল- নির্বাচিত হলে ‘দুর্নীতিমুক্ত কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থ্যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব, নির্বাচনে পরাজিত হলে গণরায় মেনে নেব, জয়ী প্রার্থীকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করব, সরকার বা বিরোধী দল যেখানে অবস্থান করি, সবসময় সংসদকে কার্যকর রাখার জন্য সংসদ বর্জনের বিপক্ষে থাকব।

তবে এমন প্রতিশ্রুতি সংবলিত অঙ্গীকারপত্রে প্রার্থীরা স্বাক্ষর করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ' এখন পর্যন্ত নেই বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপি প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু।

প্রার্থীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ভোটাররা সুজনের দেয়া শপথবাক্য পাঠ করেন। এতে ‘কোনো অর্থ কিংবা কোনো কিছুর ওপর অন্ধভক্ত হয়ে ভোট না দেয়ার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী, নারী নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরকারবারী, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, ধর্ম ব্যবসায়ী, ভূমি দস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালো টাকার মালিক, অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোট দেব না বলে শপথ করেন ভোটাররা। অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের নিজ এলাকার উন্নয়নসহ তিস্তা ও ধরলা ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আন্তনগর ট্রেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালুসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন ভোটাররা।

এ সময় ভোটারদের মধ্য থেকে প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন করেন- ভাষা সৈনিক আব্দুল কাদের ভাসানী, অ্যাডভোকেট চিত্ত রঞ্জন রায়, অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা বেগম শাপলা ও উপেন্দ্র নাথ দত্ত প্রমুখ।

রবিউল হাসান/এএম/আরআইপি