এটা ২০০৯ সালের কথা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিন। যেদিন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয় সেদিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসকরা বড় এক সাফল্য বয়ে আনেন। চিকিৎসক এম আর খানের নেতৃত্বে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে দুই পেট জোড়া লাগানো জমজ বোনদের আলাদা করা হয় সফল অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে। চিকিৎসকরাই তাদের নাম রেখেছিলেন মনি-মুক্তা। এবার পাঠকদের নিশ্চয় মনে পড়ছে।এবার ২১ আগস্ট তাদের ছয় বছর পূরণ হয়েছে। ২২ আগস্ট থেকে তাদের জীবনের আরেকটি বছর গণনা শুরু হবে। এ আনন্দে মেয়েদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন মনি-মুক্তার বাবা-মা। অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে পৃথক হওয়ার পরও তাদের সুস্থ থাকা, বিদ্যালয়ে যাওয়াকে সফলতা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী গত ২০০৯ সালের দিনাজপুরের পাবর্তীপুর ল্যাম্প হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে জমজ দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। শিশু দুটির পেট জোড়া লাগানো ছিল। ল্যাম্প হাসপাতালের সহযোগিতায় গত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় তাদের। সেখানে একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ডাক্তার অধ্যাপক এম.আর খান সফল অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো জমজ দুই বোনকে পৃথক করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।চলতি সালের জানুয়ারি মাসে মনি-মুক্তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করানো হয়েছে। এর আগে বাড়ির প্রেম কাঙ্গাল দূর্গা মণ্ডপ আশ্রম সংলগ্ন বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্দির ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষিকা শুক্লা রানী পালের কাছে তারা পড়ালেখা শুরু করে। শিক্ষিকা জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে মনি-মুক্তা দুই বোন নিয়মিত ক্লাস করছেন। তাদের পড়া লেখাও ভাল। জানা গেছে, তাদের সহপাঠিরা তাদেরকে খুব ভালোবাসে।তাদের মা কৃষ্ণা রাণী ও বাবা জয় প্রকাশ পাল জাগো নিউজকে জানান, মনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের হলেও মুক্তা বেশ ডানপিটে ও সাহসী। মনিমুক্তার মা তাদের সুস্থ্যতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন।এমদাদুল হক মিলন/এমজেড/এমএস