দেশজুড়ে

জয়ের ব্যবধান সাড়ে তিন লাখ ভোটের!

সুবর্নচর আর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ আসন। বরাবরই ধানেরশীষের আধিপত্য। কিন্তু সেই আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছিলেন একজন সাবেক ফুটবলার। একরামুল করিম চৌধুরী। ২০০৮ থেকে নোয়াখালী-৪ আসনের একচ্ছত্র অধিপতি একরামুল করিম।

এবারও ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। এবারও তার কাছ থেকে প্রতিপক্ষরা কেড়ে নিতে পারেনি এই আসন। যথারীতি বিপুল ব্যবধানে জয় নিয়ে আসনটি তিনি উপহার দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

তবে অন্যবারের তুলনায় এবার নোয়াখালী-৪ আসনে যে ব্যবধানে তিনি জয়লাভ করেছেন, তা বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই জয় দিয়ে প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী শাহজাহানের পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকেই যেন ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন একরামুল করিম চৌধুরী। যিনি কি-না, এই আসন থেকে ৩বার বিজয়ী হওয়া সাংসদ ছিলেন।

নোয়াখালী এমনিতেই জনবহুল এলাকা। তারওপর এই আসনটিতে আরও বেশি। মোট ভোটার সংখ্যান ৫ লাখেরও বেশি, ৫৪৪৩২৯জন। মোট প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। তবে স্বাভাবিকভাবেই লড়াই হওয়ার কথা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে। অথচ, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট গ্রহণ শেষে গণনা করতে গিয়ে দেখা গেলো একরামুল করিম চৌধুরীর সামনে দাঁড়াতেই পারেননি শাহজাহান। যদিও, ভোট নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষ থেকে। তবুও, দুই প্রার্থীর ব্যবধান দেখে হতবাক সবাই।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী এই আসন থেকে পেয়েছেন ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহজাহান পেয়েছেন মাত্র ২৩২৫৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৮। এত বিপুল ব্যবধানে এর আগে কখনোই জিততে পারেননি একরামুল করিম চৌধুরী।

এর আগে ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে একরামুল করিম ১ লাখ ৩১ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এবার জিতলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে।

আইএইচএস/আরআইপি