দেশজুড়ে

সৌদিতে মাকে যৌন নির্যাতন, দেশে ফেরাতে ছেলেদের আকুতি

দালালদের খপ্পরে পড়ে গৃহপরিচারিকা হিসেবে সৌদিআরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার মা মোছাম্মদ বেগমকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন দুই ছেলে বগুড়ার শাজাহানপুরের মাঝিড়াপাড়ার মিঠু মিয়া ও মিলন মিয়া।

শনিবার তারা এ ব্যাপারে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। রোববার দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়াপাড়া গ্রামের সামাদ মিয়ার দুই ছেলে অভিযোগ করেছেন, মা মোছাম্মদ বেগম (৪৫) দালালদের খপ্পরে পড়েন। দালালরা প্রায় ৭ মাস আগে ঢাকার পল্টনে অবস্থিত তাসলিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে সৌদিআরবে পাঠিয়েছে তাকে। ওই দেশের জনৈক কপিলের (গৃহকর্তা) বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের কথা বলে নিয়ে গেলেও তার ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

তারা জানান, তাদের মা গত প্রায় ৫ মাস ধরে মোবাইল ফোনে তার অবস্থার কথা জানিয়ে আসছেন। তারা এ ব্যাপারে ওই এজেন্সির কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তিনি উল্টো এ ঘটনায় মায়ের দোষ দিচ্ছে।

ওই দালাল চক্রের অপর সদস্য বগুড়ার শেরপুরে বেলঘড়িয়া গ্রামের আবদুল হালিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাদের মা ভালো আছেন।

এদিকে, গত তিনদিন ধরে মোছাম্মদ বেগম সৌদিআরব থেকে ফোনে জানাচ্ছেন, তাকে অন্য কোনো খারাপ জায়গায় বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিদিন তার ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

মিঠু ও মিলন আরও জানান, তার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী কুলছুমকেও (৩৫) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক মাস পর অন্যের সহযোগিতায় দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। যা শুনে আমরা মায়ের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই নারী তাদের বলেছেন, গৃহপরিচারিকার কাজে সৌদিআরবে যাওয়া নারীরা নিরাপদ নয়।

দুই ভাই আরও বলেন, তারা হতদরিদ্র ও অশিক্ষিত। তাদের পক্ষে মাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই তারা সরকারের মাধ্যমে মাকে ফিরিয়ে আনা ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া শেরপুর উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের আবদুল হালিম সৌদিআরবে ভালো বেতনে গৃহপরিচারিকার কাজ দেয়ার কথা বলে বেগম ও কুলছুমকে ঢাকায় তাসলিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিতে হাবিবুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। এদের দুইজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজারেরও কিছু বেশি টাকা নেয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ঢাকার ওই এজেন্সির স্টাফ পরিচয় দানকারী হাবিবুর রহমান বলেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি অনুসারে বৈধভাবে বেগম ও কুলছুমকে সৌদিআরবে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বেগম সৌদিআরবের আলগাছিম এলাকায় একটি বাড়িতে মাসিক ৮০০ রিয়াল বেতনে কাজ করছেন। তার সঙ্গে মালিকরা খুব ভালো ব্যবহার করেন।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লিমন বাসার/এএম/আরআইপি