দেশজুড়ে

পাঁচ নেতার বহিষ্কার চাইলেন পরাজিত মঈন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়ে নিজ দলের পাঁচ নেতার বহিষ্কার চাইলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীক নিয়ে লড়েন মঈন। নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী অবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার কাছে পরাজিত হয়েছেন।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে এ আসনের স্থগিত তিন কেন্দ্র- আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাপুর (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজী মো. ছফিউল্লাহ্ মিয়াসহ দলের পাঁচ নেতার বহিষ্কারের পাশাপাশি আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল আলম তালুকদারের অপসারণ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মঈন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের লোক হয়েও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ্ মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান রতন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সি, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান আনসারী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজাহান আলম সাজু বিভিন্ন সময়ে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা ও বিএনপির প্রার্থী আবদুস সাত্তারকে জয়ী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। পাশাপাশি যখন আমি সামান্য ভোটের ব্যবধানের কাছাকাছি চলে আসলাম তখনই বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তারা প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু করেন। যদিও আমাকে নির্বাচনের মাঠে তারাই প্রতিশ্রুতি দিয়ে নামিয়েছিলেন। তাই তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানাই।

এ সময় তিনি আশুগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে অপসারণেরও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাছের আহমেদ, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমির হোসেন ও তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু শামা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের ১৩২ কেন্দ্রের মধ্যে তিন কেন্দ্রে অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। তবে ১২৯ কেন্দ্রের ফলাফলে আবদুস সাত্তার ধানের শীষ প্রতীকে পান ৮২ হাজার ৫২৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট। স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৪। তিন কেন্দ্রের ফলাফলে সাত্তার পেয়েছেন এক হাজার ২৭৪ ভোট আর মঈন পেয়েছেন দুই হাজার ৮৫৫ ভোট।

আজিজুল সঞ্চয়/বিএ