দেশজুড়ে

লাবু-সবুজ আসলে কোথায়!

গত চার দিন ধরে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু ও সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সহ-সভাপতি শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যসহ যে রিসোর্টে তারা ছিলেন সেখানকার মালিক এবং স্টাফরা দাবি করছেন তাদেরকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে নিয়ে গেছে।শুক্রবার ভোরে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট থেকে র‌্যাব সদস্যরা লাবু ও সবুজকে আটক করে নিয়ে যায়। লাবু-সবুজকে গ্রেফতারের আগে র‌্যাব সদস্যরা ওই রিসোর্টের মালিক মনিরুজ্জামান মনিরকেও তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। অবশ্য ওই দিন রাত ১১টার দিকে মনিরকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব।লাবু এবং সবুজ র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার বিষয়টি সবাই নিশ্চিত বলে দাবি করলেও র‌্যাব বলছে অন্য কথা। র‌্যাবের দাবি তারা লাবু এবং সবুজ নামের এমন কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। লাবু-সবুজের আটক বা গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে পুলিশও মুখে কুলুপ এটে রেখেছে। লাবু-সবুজ যে আসলে কোথায়? জীবিত না মৃত এ নিয়ে ধ্রুমজাল তৈরি হয়েছে। রহস্যের জট কিছুতেই খুলছে না। চার দিন পেরিয়ে গেলেও লাবু-সবুজের কোনো সন্ধান মিলছে না।এলাকাবাসীর একটাই জিজ্ঞাসা র‌্যাব বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি সত্যিই তাদেরকে আটক করে না থাকেন তাহলে সবুজ-লাবু গেল কোথায়? গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকার ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টের অপারেশন ম্যানেজার শিমুল সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ভোরে র‌্যাব সদস্যরা ওই রিসোর্টের প্রধান ফটকের গ্রিল কেটে সেখানকার নৈশ প্রহরীদের বেঁধে ফেলেন। পরে তিনজন নৈশ প্রহরীকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের একটি দল নিজ বাড়ি থেকে রিসোর্টের মালিক মনিরুজ্জামান মনিরকে আটক করে।র‌্যাব সদস্যরা মনিরকে সঙ্গে করে নিয়ে এসে ওই রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সহ-সভাপতি শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজকে আটক করে নিয়ে যায়।শিমুল জানান, এসময় রিসোর্ট থেকে র‌্যাব সদস্যরা তিনটি ওয়ারলেস সেট ও পাঁচটি মোবাইল ফোনও জব্দ করে নিয়ে যায়। লাবু-সবুজের র‌্যাবের হাতে আটকের খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পরিবারসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দুই পরিবারের সদস্যরাও গাজীপুরের ওই রিসোর্টের স্টাফদের বরাত দিয়ে লাবু-সবুজের আটকের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে জানান। কিন্তু সাংবাদিকরা লাবু-সবুজের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত কিনা জানতে র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে র‌্যাব সদস্যরা তা অস্বীকার করে।র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ইউনিটের কমান্ডার মেজর মোসাদ্দেক ইবনে মুজিব সাংবাদিকদের জানান, তারা কিংবা র‌্যাবের কোনো ইউনিট লাবু-সবুজকে আটক করেছে এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। সবুজের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া জাগো নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ মোবাইল ফোনে সবুজের সঙ্গে তাদের কথা হয়। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জিনিয়া বলেন, আমরা নিশ্চিত র‌্যাবই সবুজ ও লাবুকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু র‌্যাব বিষয়টি স্বীকার করছে না।গত চার দিন ধরে তারা কোথায় আছে, কারা কাছে আছে, জীবিত না মৃত নাকি গুম হয়েছেন? তারা কিছুই জানতে পারছেন না। একেক সময় তাদের কাছে একেক রকম তথ্য আসছে। কোনো সময় তথ্য আসছে ঢাকায় তাদেরকে র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে সিরাজগঞ্জে র‌্যাবের কাছে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানেও খোঁজ নেয়া হয়েছে।কুষ্টিয়ায় র‌্যাব-ডিবি পুলিশের কাছে আছে কিনা সেখানেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই সবুজ-লাবুর সন্ধান জানাচ্ছে না। লাবু-সবুজের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত কিনা এ বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করেনি। আর র‌্যাব সদস্যরা তাদেরকে আটক বা গ্রেফতার করেছে কিনা এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই।এদিকে র‌্যাব হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শনিবার গাজীপুর ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টের মালিক মনিরুজ্জামান মনির সাংবাদিকদের জানান, র‌্যাব সদস্যরা আটকের পর তার এবং লাবু-সবুজের চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের তিন জনকেই এক সঙ্গে রাখা হয়। এরপর লাবু-সবুজকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়। রাত ১১টার সময় তাকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব। এক সাথে থাকাকালীন সময় পর্যন্ত র‌্যাব সদস্যরা তাদের সঙ্গে কোনো অসাদাচরণ করেনি বলেও তিনি দাবি করেন। লাবু-সবুজ আটকের ঘটনায় কুষ্টিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফুঁসে উঠেছেন ব্যবসায়ীরাও। শনিবার শহরের প্রধান সড়ক এন এস রোডের ব্যবসায়ীরা দিনভর দোকান পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে লাবু-সবুজ আটকের প্রতিবাদ জানান। লাবু-সবুজের আটক হওয়া প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী জাগো নিউজকে বলেন, লাবু-সবুজ যাদের কাছেই থাকুক না কেন তাদেরকে বিচারিক আইনের হাতে সোপর্দ করা উচিত।  আল-মামুন সাগর/এমজেড/আরআইপি