দেশজুড়ে

মাথার ওপর ছাদ ঝুলছে, তার মধ্যেই চিকিৎসা চলছে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ১৯৫১ সালের নির্মিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একতলা ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশ খসে পড়েছে, দরজা-জানালার অবস্থায়ও খুবই জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কায় ১৫ বছর আগে কেটে নেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দেখে গেলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আলমগীর হোসেন জানান, তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী কর্মকর্তা হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সেখানকার মেডিকেল অফিসারকে অন্য জায়গায় প্রেষণে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ফার্মাসিস্ট উত্তম কুমারকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করে নেয়া হয়েছে। আর অফিস সহকারী আখের মিয়া মাসের অর্ধেক কাজ করেন বরমী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, আর বাকি দিন কাজ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বর্তমানে তিনিই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একাধারে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও পিওনের কাজ করে যাচ্ছেন।

মো. আলমগীর আরও বলেন, ১৯৫১ সালের ১৫ই জুন ভাওয়াল কোর্ট অব ওয়ার্ডস স্টেটের তৎকালীন ম্যানেজার মি. এ এম নাসির উদ্দিন ভবনটির উদ্বোধন করেন। ভবনটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার কাজ করা হলেও বর্তমানে এর অবস্থা খুবই নাজুক। ছাদের ওপর বটগাছসহ অন্যান্য পরগাছা জন্মে তাদের শেকড় ছাদের ভেতরে ঢুকে গেছে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় অল্প বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে পড়ে। দরজা জানালাগুলোও নড়বড়ে। স্থানে স্থানে পলেস্তারাও খসে পড়েছে। ভবনের এ দূরাবস্থার কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের সংযোগও কেটে নিয়ে গেছে। এতে সন্ধ্যা নামা তো দূরে থাক আকাশে মেঘ হলেই ভবনের ভেতরে অন্ধকার নেমে আসে। এছাড়া ভাঙা জানালা-দরজা দিয়ে চোর ঢুকে ওষুধসহ বিভিন্ন মালপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এসব ব্যাপারে অভিযোগ করলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক জানান, বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি ও বিভাগীয় পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ও হেল্থ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে অবগত করেছি। তারা সরেজমিনে দেখে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্যত্র সরানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু এ যাবৎ ওই ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গাজীপুরের হেল্থ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন বরমী উপ-স্বাস্থ্যকন্দ্রের পাশেই পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি উদ্বোধন হলেও তার কোনো জনবল, আসবাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা হয়নি। জমি বা স্থান নির্দিষ্ট করে দিলেই নতুন ভবন স্থাপনের বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

শিহাব খান/এফএ/আরআইপি