তিন মাস ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এরপরই ঝিমিয়ে পড়ে সরকার দলীয় এ ছাত্র সংগঠনটির কার্যক্রম।
অভিযোগ তদন্তে তখন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয় জাগো নিউজকে বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গত নভেম্বরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বাকিটা কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।
অবশ্য মৌখিকভাবে কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম। তবে গত তিন মাসে ভর্তি পরীক্ষার সময় কিছু দৃশ্যমান কার্যক্রম চালালেও এরপর থেকেই স্থবিরতা দেখা যায়। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটি এই কমিটিকেই কার্যক্রম চালানোর পুনঃআদেশ দেবে নাকি নতুন কমিটি অনুমোদন দেবে এ নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল ছাত্রলীগের বর্তমান বিশ্বিবদ্যালয় কমিটি অনুমোদন দেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং জাকির হোসেন। এর আগে ৬ এপ্রিল বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয় সম্মেলন। কমিটি অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সহজেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করেন তারা। এই কমিটিই ক্যাম্পাসের এক সময়ের প্রভাবশালী শিবিরকে বিতাড়িত করে সবগুলো আবাসিক হল নিজেদের দখলে নেয়। তবে এ কমিটির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারা, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিশ্বিবিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি কমানোর যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন করায় বিশ্বিবিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এতে প্রতিক্রিয়াশীলদের রাজনীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত তিন মাসে বিশ্বিবদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ড না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, নতুন একটা শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ছাত্রলীগের আদর্শে উজ্জিবীত করতে কোনো কর্মসূচি নেই। এছাড়া নেই কোনো রুটিন কর্মসূচিও। এতে কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্যই বিবেচনা করবেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহসম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, কার্যক্রম একেবারে বন্ধ এ কথাটি সঠিক নয়। আবাসিক হলগুলোতে নতুন শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে সকল সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা করি।
তবে স্থগিতাদেশের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এফএ/এমএস