দেশজুড়ে

ধর্ষণ চেষ্টা মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও এক মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন পৌঁছায়নি আদালতে।

ওই কর্মকর্তা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে ওই গৃহবধূ ও তার পরিবার।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের ওই গৃহবধূকে প্রায়ই বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন একই গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫)। বিষয়টি নিয়ে ওই গৃহবধূর পরিবার স্থানীয়ভাবে বিচারপ্রার্থী হলে হাবিবুর রহমান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং তাকে কলঙ্কিত করার হুমকি দেন। এরই জের ধরে গত ৯ জানুয়ারি রাতে ওই গৃহবধূর স্বামী বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে হাবিবুর রহমান সুকৌশলে গৃহবধূর ঘরে ঢোকেন।

এ সময় হাবিবুর রহমান ওই গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে পাশের ঘরে থাকা গৃহবধূর ছেলে-মেয়েরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হাবিবুর রহমান পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় গত ১৫ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বিচারক সরাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

তবে মামলা দায়েরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিয়ে গড়িমসি করছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করে সরাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছি। আমার স্টাফদের কাছে প্রতিবেদন দেয়া আছে। তারা দিয়ে দিয়েছে মনে হয়।

তবে ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেননি জহিরুল ইসলাম।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমকেএইচ