জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের আট ঘণ্টার মধ্যেই ভাতিজার খুনি সোহেল কামারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোহেল কামারের হামলায় ওসি, তিন এসআই, এক এএসআইসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাঁপারকোনা গ্রামের মনছুর আলীর সঙ্গে সোহেল কামারের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভাতিজা সিয়ামকে (৮) সোমবার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় সিয়ামের বাবা মনছুর আলী বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রাতেই সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ খুনিকে গ্রেফতারে তৎপর হয়ে ওঠে।
সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) জোয়াহের হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ডোয়াইল ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় খুনি সোহেল পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে জাপটে ধরলে ধারাল ছুরি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সেই সঙ্গে ছুরি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আঘাত করে। এতে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) জোয়াহের হোসেন, এসআই ইমান আলী, এসআই আশরাফ আলী, এসআই আরিফুল ইসলাম, এএসআই এনামুল, কনস্টেবল ফরহাদ ও নূর ইসলাম আহত হন। পুলিশকে ছুরি মেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। এতে সোহেল কামার গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হত্যা মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় চাঁপারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম পাশের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় চাচা সোহেল কামার ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। সিয়ামের ছোট বোন মীম ঘটনা দেখে চিৎকার করলে তাকেও ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
সরিষাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি মাজেদুর রহমান বলেন, ভাতিজা সিয়াম হত্যার আসামি সোহেলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তার ছুরির আঘাতে ওসি, তিন এসআইসহ সাতজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন।
এএম/জেআইএম