শনিবার বেলা ১টা, পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ থেকে ভেসে আসছে জোহরের নামাজের আজান। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মসজিদ সংলগ্ন ভবনগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ৬৭ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরও চার জন।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই এলাকায় চারপাশের রাস্তাঘাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর ওয়াহিদ ম্যানসন ও এর পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বাসভবনের সামনে থেকে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত যানবাহনসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি অপসারণ করে আলামত হিসেবে থানায় নেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকা সর্বসাধারণ ও যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।
আজ (২ মার্চ) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় দু’দিন আগে রাস্তা খুলে দেয়ার পর এখনও স্বাভাবিক হয়নি চুড়িহাট্টায় যান ও জন চলাচল। অগ্নিকাণ্ডেরস্থল পরিদর্শন করতে দূর-দূরান্ত থেকে এখনও ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ। তারা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, দোকানপাট দেখছেন। জানা ঘটনাটি নিয়েও নানাভাবে বিশ্লেষণ চলছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের ভিড় ওয়াহিদ ম্যানসন নিয়ে।
তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকলেও এখন তা প্রত্যাহার করায় অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন ওই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা তারেক আল মাহমুদ তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়ে কাকলিকে অগ্নিকাণ্ডের স্থল দেখাতে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, টিভিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখে তার মেয়ে এখানে আসার আবদার করেছিল। আজ বন্ধের দিন, তাই নিয়ে এসেছেন। এ সময় কাকলি বাবার কাছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কোথায় আগুনের সূত্রপাত, হোটেল, ফার্মেসি কোথায় ছিল -তা জানতে চাইছিল।
তখন স্থানীয় বাাসন্দা সুরুজ আলী মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে ওয়াহিদ ম্যানসনের সামনে এত মানুষের ভিড় দেখে বলেন, ‘বাড়িটা তো দেহি দর্শনীয় ভবন অইয়া গেছে।’
এমইউ/এমএমজেড/এমকেএইচ