রাজশাহীর বাগমারায় হাফিজুর রহমান নামে এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে দিনদুপুরে মাছ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই দফায় লুটের ঘটনায় মাছ ব্যবসায়ী মহসীন আলী বাগমারা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর থেকে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফিজুরসহ অন্য আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ শাহ মখদুমথানার সন্তোষপুর মহল্লার বাসিন্দা মহসীন আলীর বাগমারার চকহায়াতপুরে চারটি পুকুর রয়েছে। বিসমিল্লাহ মৎস্য খামারের মালিক মহসীন প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের পাশাপাশি থাকা এ চারটি পুকুর ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন।
পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ২৭ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জোরপূবর্ক পুকুর থেকে মাছ লুট করে হাফিজুর ও তার সহযোগীরা।
পুকুরের মালিক মহসীন অভিযোগ করেন, পর পর দুইদিন মাছ লুটের সময় জামায়াত নেতা হাফিজুর, তার সহোদর আবদুল জাব্বার এবং বাগমারার মোহনগঞ্জ এলাকার আবদুল্লাহেল কাফি ২০-২৫ জন দুর্বৃত্তকে নিয়ে পুকুর পাড়ে যায়। এ সময় তারা দেশীয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এরপর পাহারাদার আবুল কালামকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। দুই দিনে চারটি পুকুর থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমান দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডার। ২০১৩ সালের শেষ দিকে এবং ২০১৪ সালে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ শাহ মখদুম থানার বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ,পেট্রল বোমা হামলা, জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংগঠিত করে নাশকতামূলককর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে খড়খড়ি বাইপাস, শাহ মখদুম থানার মোড় এবং পবা উপজেলা পরিষদের সামনে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে পেট্রল বোমা দিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ মখদুম থানায় তার বিরুদ্ধে অর্ধডজন মামলা রয়েছে। এরপর থেকে হাফিজুর তার ভাই জাব্বারের শশুর বাড়ি বাগমারার যোগিশো উত্তরপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, তদন্তের পর সত্যতা পাওয়ায় বুধবার রাতে অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি হাফিজুর জামায়াত নেতা। তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে কিনা- সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বাগমারায় আত্মগোপনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ফেরদৌস সিদ্দিকী/এমএমজেড/এমকেএইচ