বগুড়ায় আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় বাড়ছে গ্যাস চুরির ঘটনা। জেলার শাজাহানপুর এবং সদরে অর্ধশতাধিক সংযোগে ও সংযোগ ছাড়া আরও শতাধিক বাড়িতে গ্যাস রয়েছে। এর মধ্যে দুই একটি চুরির ঘটনা ধরা পড়লেও অন্যরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শনিবার বগুড়া শহরের নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলাকালে তিনজনকে হতেনাতে আটক করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাসের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান, গ্যাসের চোরাই লাইন করার সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন- পাবনার সুজনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের তমছের উদ্দিনের ছেলে সিরাজ উদ্দিন, একই উপজেলার কাদোয়া সাহাপুরের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মৃত শাহেদ আলীর ছেলে খোরশেদ আলম। আটকরা জলেশ্বরীতলা নূর মসজিদের পূর্বে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাশের ভবনের এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাইনের ওপর অবৈধভাবে আরও লাইন বের করছিল।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য রাইজার উত্তোলনের টেন্ডার আহ্বান করে। সে অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ চালু হয়। পর পর দুইবার রাইজার উত্তোলনের জন্য টেন্ডার হলেও পরে রাইজার উত্তোলনের জন্য আর টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। টেন্ডার আহ্বান না করার কারণে ২০১৫ সাল থেকে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সংযোগ তালিকা খাটো করার জন্য সে সময় সব গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়নি। প্রথমে মূল সঞ্চালন লাইন থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে সংযোগ দেয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে ১০ মিটারের মধ্যে যে গ্রাহকরা ছিলেন কেবল তাদেরকে সংযোগ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয় কয়েক হাজার আবাসিক গ্রাহক।
এছাড়া তালিকার বাইরে আরও কয়েক হাজার গ্রাহক রয়েছেন যারা ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেছেন কিন্ত এরপর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ এমনকি সংযোগ বর্ধিতকরণও বন্ধ করে দেয়া হয়। আর এ কারণে গ্যাস চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর ও সদরে অনেক স্থানেই সংযোগ থেকে গ্যাস চুরি হচ্ছে। মূলত বর্ধিত চুলার সংযোগ বন্ধ থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে যে সব ভবনে আগে দুইতলা কিংবা তিনতলা ছিল সে সব ভবন উর্ধ্বমুখি সম্প্রসারণ করার পর দীর্ঘদিন সংযোগ না পাওয়ায় তারা চুরির মত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গ্যাসের কাজ করে এমন কতিপয় মেকানিক অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ভবন মালিকদের অবৈধভাবে সংযোগ দিচ্ছে। অতীতেও হোটেল রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেট্রল পাম্পে বাইপাস করে গ্যাস চুরির ঘটনা ঘটেছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির ভিজিল্যান্স টিম চুরি ঠেকাতে তৎপর বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান শৈলজানন্দ বসাক। তিনি জানান, গ্যাস চুরি রোধে তাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির বগুড়া ম্যানেজার তোফায়েল আহম্মেদ জানান, অবৈধ সংযোগধারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
লিমন বাসার/আরএআর/এমকেএইচ