আন্তর্জাতিক

ক্রাইস্টচার্চে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে গুলি করে হামলাকারী

এখনও ক্রাইস্টচার্চে হামলার স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেখানকার মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের। যারা এখনও বেঁচে আছেন তারা সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। আবার অনেকেই আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। সেখানে নিউজিল্যান্ড ছাড়াও অনেক দেশের নাগরিকরাই নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ছিল এক ভারতী দম্পতিও।

তারা দু'জনেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন। যদিও তারা দু'জন ছিলেন দুই হলরুমে। ফলে হামলাকারীর গুলি থেকে স্বামী প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারাতে হয়েছে তার স্ত্রীকে।

মসজিদে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড থেকে পালিয়ে বেঁচেছেন আবদুল নাজের। কিন্তু যখন মসজিদের ভেতরে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তখন তার স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হন। চোখের সামনে স্ত্রীকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সেই দৃশ্য এখনও মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুতেই এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না নাজের।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে তার স্ত্রী এনসি আলিবাভারও (২৫) ছিলেন। নিয়াস নামে আনসির এক আত্মীয় জানিয়েছেন, যখন গোলাগুলি শুরু হয় তখন তারা দু'জন দু'টি আলাদা হলরুমে ছিলেন। নাজের গুলির শব্দ শুনতে পান এবং তিনি তার স্ত্রীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে যেতে দেখেন।

তারা দু'জনে ভারতের কেরালা রাজ্যের কোদুনগালোর বাসিন্দা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তারা নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে তারা ক্রাইস্টচার্চেই বসবাস করতেন।

নিয়াস বলেন, আমি ওই হামলার কথা শোনার পর পরই আমার দুলাভাইয়ের (নাজের) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি তখনও কথাই বলতে পারছিলেন না।

নাজের তাকে জানিয়েছিলেন যে, মসজিদে রক্তের বন্যা বয়ে গেছে। তিনি সেটা চোখের সামনে দেখেছেন। লোকজন মসজিদের ভেতরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন এবং পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি আনসিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু হামলাকারী এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর কারণে তিনি তার কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

টিটিএন/এমকেএইচ