জাতীয়

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অদূরেই ‘অসুখের কারখানা’!

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অদূরেই ‘অসুখের কারখানা’ গড়ে উঠেছে। হাসপাতাল প্রশাসন ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় রাস্তার দু’পাশেই অবৈধভাবে অসুখ-বিসুখ তৈরির একাধিক কারখানা চলছে।

‘অসুখের কারখানা’ শব্দটি শুনে পাঠক হয়তো ভাবতে পারেন এ আবার কেমন কারখানা। এ অসুখের কারখানা হলো রাস্তার দু’পাশে বিশেষ করে জরুরি বিভাগের ফটকের বিপরীত দিকে স্থাপিত খাবার হোটেল। এসব খাবারের হোটেলে সকালের নাস্তায় পরোটা, ভাজি, ডিম, হালুয়া, সিঙারা, সমুচা; দুপুর ও রাতে ভাত, মাছ, মাংস, ডিমকারি, শাকসব্জি ও ডালসহ বিভিন্ন খাবার ঢাকনাবিহীন খোলামেলা পরিবেশে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সোজা দক্ষিণ দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগমুখী এ রাস্তাটি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় সকাল থেকে রাত অবধি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, জিপ গাড়ি, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। রাস্তার পাশে ফুটপাতে অবৈধভাবে স্থাপিত খাবার হোটেলের খাবার ঢাকনা ছাড়া খোলামেলা রেখে দেয়া হচ্ছে। সহজেই এসব খাবারে ধুলাবালি পড়ছে।

পানির কোনো বৈধ সংযোগ না থাকায় হোটেলগুলোতে আশপাশের ওয়াসার সরবরাহ করা পানি খেতে দেয়া হয়। এসব পানি জীবাণুমুক্ত নয় বলে ক্রেতাদের অনেকে জানিয়েছেন। ক্রেতাদের খাবারের পর রাস্তার পাশেই খাবারের থালাবাসন ধৌত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের বিপরীতে পূর্বদিকের রাস্তার ফুটপাত ঘেঁষে ১৩২ কেভি উচ্চতাপসম্পন্ন ভূ-গর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল তৈরির কাজ চলছে। এ উপলক্ষে কয়েক ফুট গভীর মাটি কাটা হয়েছে। মাটিগুলো তুলে ফুটপাতের হোটেলের সামনে স্তুূপ করে রাখা হচ্ছে। এমতাবস্থায়ও খাবার হোটেলগুলোর প্রায় প্রতিটিতে বিভিন্ন ধরনের নাস্তা ও খাবার ঢাকনাবিহীন ও খোলামেলা রাখা হচ্ছে। স্তুূপ করে রাখা লাল মাটির ও রাস্তার ধুলা উড়ে পড়ছে খাবারে।

ঢামেক হাসপাতালের একাধিক অধ্যাপক এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে প্রতিদিন রোগী, তাদের অভিভাবক, ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, বিভিন্ন পদে কর্মরতরাসহ কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এ পথে। অনেক রোগীর অভিভাবকই একটু কম খরচে খাবার পেতে ফুটপাতের হোটেলে যান। এ ধরনের খাবারের দোকানে খাবার খেয়ে নীরবে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়া ও জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’

জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ প্রশাসন গোপনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের দু’পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট স্থাপনের অনুমতি দিচ্ছে। কালেভদ্রে হাসপাতালে ভিআইপি এলে প্রশাসন কয়েক ঘণ্টার জন্য দোকানপাট উচ্ছেদ করে। ভিআইপি চলে যাওয়ার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

ঢামেক হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হাসপাতালের দু’পাশে খাবার হোটেল ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানপাট হাসপাতালের কর্মচারীও তাদের স্বজনদের। এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তারা ধর্মঘটের হুমকি দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দু’পাশের ফুটপাত দখল করে থাকায় হাসপাতালেরও সৌন্দর্যহানি ঘটছে। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত বখরা তোলায় খুব সহজে উচ্ছেদ অভিযানে যেতে চায় না।’ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চাইলে এ ধরনের অসুখের কারখানা বন্ধ করতে পারে জানান তিনি।

এমইউ/এসআর/পিআর