দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বুধবার দুপুর ২টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বলায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আগের সংবাদটি পড়ুন : স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বললেন তিনি
সংবাদ সম্মেলনে বীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কালিপদ রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সংসদ সদস্য, স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক লেগেই থাকে। এবার তিনি উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ের পর ধাক্কা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসম্মানে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বলায় তিনিও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা চেয়ারম্যানকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত, এমনকি বুধবারও তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার কিংবা দুঃখ প্রকাশ করেননি। তিনি অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে মুক্তিযোদ্ধারা।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কালিপদ রায় আরও বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বলায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমাদের নীতি আদর্শকে অসম্মান করা হয়েছে। আয়োজকদেরও উচিত ছিল এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা। কিন্তু আয়োজকরা তা করেনি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা প্রেমানন্দ রায়, যতিন্দ্র মহন্ত, কুমদ রজন, আঃ আজিজ, টংক নাথরায়, মো. মোজাম্মেল, বিনয় অধিকারী, ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়, যামিনি কান্ত অধিকারি, মো. নজরুল ইসলাম, এসএমএ খালেক, হরিপদ রায়, কৃষ্ণ চন্দ্র বস, মহেন্দ্র চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এমএস