দেশজুড়ে

অবশেষে ভৈরব নদ উদ্ধারে মাঠে প্রশাসন

অবশেষে উচ্ছেদ হচ্ছে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা এলাকার ভৈরব পাড়ের অবৈধ স্থাপনা। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে নদীর জমি দখল করে রাখা দখলদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। এর আগে উচ্ছেদের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় শতাধিক স্থাপনার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকালে দড়াটানা সেতু সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে শহরাংশের ৮৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে।

জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পনন হয়েছে। ৯২ কিলোমিটার খনন কাজের ৭০ কিলোমিটার কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের চূড়ান্ত এই তৎপরতা শুরু হওয়ার পর বুধবার সকালে যশোর পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি ও গরীব শাহ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব স্থাপনা বৈধ দাবি করেন। একইসঙ্গে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ না করার দাবিতে তারা প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ও শহরের দড়াটানা মানববন্ধনও করেন।

তবে গুটি কয়েক দখলদার ছাড়া উচ্ছেদের পক্ষে শহরের সব শ্রেণি পেশার মানুষ। শহরবাসীর প্রাণের দাবি ভৈরব নদকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায়, যশোর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে দড়াটানা ভৈরব চত্বর থেকে শুরু করে গরীব শাহ সড়কের পাশের জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন পুস্তকসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে ভৈরব নদকে পুনঃখননের উদ্দেশ্যে এসব দোকান সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে একাধিকবার তা উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য ২০০৫ সালের পর থেকে সরকারি এসব জমির বরাদ্দ আর নবায়ন করা হয়নি। তবে উচ্ছেদে তোড়জোড় শুরু হলেই এই ব্যবসায়ী নেতারা একাধিকবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে উচ্ছেদ উদ্যোগ বন্ধ করে দেন। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হচ্ছে না।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে এসে ভৈরব খনন কাজ উদ্বোধন করার পর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে তৎপরতা শুরু হয়। ২৮ জানুয়ারি স্থাপনা সরিয়ে নিতে ২৯৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসন। যার মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ভৈরব গর্ভে রয়েছে ৮৬টি প্রতিষ্ঠান। তবে নোটিশের পরপরই অবৈধ সম্পদ রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে সংঘবন্ধভাবে তারা উচ্চ আদালতে যান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ভৈরব নদ খননে একনেকে অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পর অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিতের কাজ শুরু হয়। ভৈরব নদের সীমানা নির্ধারণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা তৈরি করে। এছাড়া নদের দুই ধারে যশোর জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করে প্রশাসন।

সবমিলিয়ে ভৈরব গর্ভে ও তার পাড়ে সরকারি জমিতে গড়ে তোলা ২৯৬ অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। নোটিশ পাওয়ার পরদিনই বেশ কয়েকজন নিজেদের বৈধ মালিক দাবি করে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে তারা উচ্ছেদ বন্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ফলে থমকে যায় যশোর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ভৈরব পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম