অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বেনাপোল সীমান্ত থেকে ১৭ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে আটক করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সদস্যরা। এদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ রয়েছে।
শুক্রবার সকালে বেনাপোলের গাতীপাড়া তেরঘর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিজিবি। আটকরা সবাই চোরাকারবারী বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তারা ভারত থেকে আসার সময় তাদের কাছে কোনো অবৈধ মালামাল না পাওয়ায বিজিবি তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করেছে।
আটকরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার গাতীপাড়া গ্রামের ফজলুল রহমানের ছেলে রনি মিয়া (২২), আব্দুস সাত্তারের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৩), খলিল মন্ডলের ছেলে আহসান (৩৫), আবদুস সাত্তারের ছেলে মনিরুজ্জামান (২৫), খোছতার আলীর ছেলে লালটু (২৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে সোহেল (২৫), রেজাউল ইসলামের স্ত্রী মমতা (৪০), কালুর স্ত্রী আছমা (৩০), বড়আঁচড়া গ্রামের আব্দুল রশিদের স্ত্রী হাসিনা (৪৫), যশোর শংকরপুর এলাকার বেলাল মিয়ার স্ত্রী পান্না (৩০), ইছাহক মিয়ার স্ত্রী চন্দনা (২০), সিরাজ মিয়ার স্ত্রী শাহানাজ (৫০), আলমগীর হোসেনের স্ত্রী টুমপা (৩০), জহিরুল ইসলামের স্ত্রী শাহিদা (৬০), আসলামের স্ত্রী জোসনা (৩৬), ইদ্রিস আলীর স্ত্রী নুর জাহান (৫৫) ও যশোর শেখহাটি গ্রামের সরোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফরিদা (৫৫)।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মোজাম্মেল হোসেন জানান, গোপন খবরে জানা যায়, গাতীপাড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ১৩ ঘর এলাকায় একদল নারী-পুরুষ অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। এক পর্যায়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এপারে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রেবশ আইনে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ওই বিজিবি কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানায়, বেনাপোলের গাতীপাড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের তেরঘর সীমান্ত বনগাঁ থানার মধ্যে অবস্থিত। বনগাঁ থেকে এ গ্রামে আসতে হলে সীমান্ত ঘেঁষা ইছামতি নদী পার হয়ে আসতে হয়। যার বাংলাদেশের দু-পাশে বেনাপোল পোর্ট থানার গাতীপাড়া ও দৌলতপুর গ্রাম অবস্থিত। দু’পাশে বিজিবি ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করে থাকেন। চোরাচালানীরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে তেরঘরের ভেতরে গিয়ে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন চোরাচালানী মালামাল নিয়ে আসে। বিজিবির হাতে আটকরা সবাই চোরাকারবারীর সঙ্গে সংযুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তে নিয়োজিত কিছু বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে আঁতাত করেই তারা ভারতের তেরঘরে গিয়ে চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব আনা-নেয়া করে থাকে। এ কারণে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
জামাল হোসেন/এমএএস/এমকেএইচ