জাতীয়

প্রাণোচ্ছল সোহেলের চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা

বয়স খুব বেশি নয়। মুখমণ্ডল থেকে কৈশোরের ছাপ এখনও কাটেনি। এ বয়সের ছেলেদের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল বা কলেজে যাওয়ার কথা। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোর কথা। কিন্তু সোহেলের (১৮) ক্ষেত্রে তা হয়নি। অল্প বয়সেই ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। সেই হাল সামাল দিতে মালিবাগ কাঁচাবাজারে শুরু করেন চাল-ডালের ব্যবসা।

সবকিছু ঠিক ঠাকই চলছিল। মা ও ভাই-বোনদের মুখে হাসিও ফুটেছিলেন তিনি। নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে না পারলেও স্কুলে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন ছোট ভাই ও বোনকে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে লাগা সর্বনাশা আগুন সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে তার। এই দোকান থেকে আসা আয় দিয়েই সংসারের খরচ ও ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ জোগাচ্ছিলেন সোহেল। এখন সবকিছু হারিয়ে সোহেলের চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা।

রোববার দুপুরে মালিবাগ কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে মুখ গম্ভীর করে বসে আছেন সোহেল। নিষ্পাপ চোখে এক পলকে চেয়ে আছেন পুড়ে যাওয়া পণ্যের দিকে। তার মায়াভরা চেহারার এমন মলিন দৃশ্য দেখলে যেকোনো কঠিন হৃদয়ও কেঁদে উঠবে।

কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে সোহেল বলেন, ‘ভাই আমাদের সব শেষ। এই ব্যবসা দিয়েই পুরো সংসার চলছিল। ছোট ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ চলছিল। নিজে পড়তে পারিনি। চেয়ে ছিলাম ছোট ভাই-বোনক মানুষের মতো মানুষ করব। কিন্তু এখন তো সব শেষ হয়ে গেল। মা, ভাই-বোনের মুখে এখন খাবার তুলে দেবো কী করে?’

এ সময় তার বাবার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার কোনো উত্তর দেননি সোহেল। গম্ভীর মুখে নিশ্চুপ হয়ে যান তিনি।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা খায়রুল হোসেন নামের একজন বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই বাজার থেকে বাজার করি। ওই ছেলেটার দোকান থেকে চাল-ডাল কিনি। ও (সোহেল) খুব প্রাণোচ্ছল। সবসময় ওর মুখে হাসি লেগে থাকত। কখনও কোনো ক্রেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। আজ ওর দোকানের সবকিছু পুড়ে গেছে। ওর দিকে তাকালেই কান্না পাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে মালিবাগ কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট পরে পর্যায়ক্রমে ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা না গেলেও ছোট-বড় মিলে প্রায় তিন শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি দোকানই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমএএস/এমবিআর/পিআর