অর্থনীতি

মজুরি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিল বিজিএমইএ

‘পোশাক খাতের মজুরি বাড়েনি, বাস্তবে ২৬ শতাংশ কমেছে’ এক প্রতিবেদনে এমনটা দা‌বি ক‌রে‌ছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে এর সঙ্গে একমত নয় পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

বুধবার টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বিজিএমইএ।

এতে বলা হয়েছে, নতুন মজুরি কাঠামোতে মূল মজুরির ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট সমন্বয় করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার সাথে একমত নয় সংগঠনটি।

বিজিএমইএর দাবি, ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হলে ৫ বছর শেষে সামগ্রিক ইনক্রিমেন্টের হার দাঁড়ায় ২৭ দশমকি ৬৩ শতাংশ। সেখানে নতুন মজুরি কাঠামোতে মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিজিএমইএর বলছে, দ্বিতীয়ত, বিশ্ব বাজারে টিকে থাকার মূলমন্ত্রই হচ্ছে কারখানার আর্থিক সক্ষমতা। যেখানে চীন, ভিয়েতনাম ও তুরস্কের শ্রমিকদের দক্ষতার হার হচ্ছে যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ, সেখানে আমাদের শ্রমিকদের দক্ষতা মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ। নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি এবং দক্ষতার মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি মজুরি বোর্ডের বিবেচনায় ছিল না। শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে মজুরিকে সবসময় দক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা মনে করি, মজুরি-দক্ষতা ম্যাট্রিক্স নির্ধারণ করা হলে দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিকরা তাদের মজুরি পাবে।

অতিরিক্ত মজুরি প্রদান না করে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়ার কথাও বলা হয়েছে টিআইবি প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, টিআইবির প্রতিবেদনটি পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণসহ যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

পোশাক মালিকদের সংগঠনটি মনে করে, এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে যদি টিআইবি ও বিজিএমইএ একসাথে কাজ করতে পারে তাহলে তথ্যবিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনার বার্ষিকীর ঠিকপূর্বে এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ মোটেই কাম্য নয়।

এছাড়া শুধুমাত্র ৮০টি কারখানাকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়ে সমগ্র শিল্পকে নিয়ে ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিল্পকে হেয় করা কোনোমতেই কাম্য নয় বলে জানায় বিজিএমইএ।

এসআই/বিএ