দেশজুড়ে

মিস্ত্রিকে হত্যা করতে দেখে ফেলায় দারোয়ানকে হত্যা

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর সৈয়দ জামাল ও আবুল বাশার হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূলহোতা আনিছসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে খুন করা হয় সৈয়দ জামালকে, আর এ খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় পরবর্তীতে খুন করা হয় দারোয়ান আবুল বাশারকে। আনিছকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ক্লু-লেস চাঞ্চল্যকর এ দুই খুনের রহস্য বেরিয়ে আসে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘাতক আনিছ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কুমিল্লার ইনচার্জ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ১৪ জুন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বল্লভপুর এলাকার একটি ব্রিক ফিল্ডের পেছন থেকে এক স’মিলের মিস্ত্রি সৈয়দ জামালের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এর ২৫ দিন পর ৯ জুলাই ওই ব্রিক ফিল্ডের দারোয়ান আবুল বাশারকে তার অফিস কক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সৈয়দ জামাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী শাহীনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। এতে আদালত মামলাটির পুনরায় তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

এছাড়া দারোয়ান আবুল বাশার হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটিও চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে পিবিআই কুমিল্লাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

পিবিআই কুমিল্লার ইনচার্জ মোহাম্মদ ওসমান গনি জানান, দুটি মামলা গ্রহণের পর গত শনিবার বল্লভপুর গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে আনিছকে (৪৫) প্রথমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জেলার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি হত্যা, মাদক, ছিনতাইসহ ১২টি মামলার আসামি। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একপর্যায়ে জানান, মাদক ব্যবসায় বিরোধের জের ধরে শ্বাসরোধ করে সৈয়দ জামালকে হত্যা করে মরদেহ ওই ব্রিক ফিল্ডের পেছনে ফেলে রাখা হয়। এ হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় পরবর্তীতে ব্রিক ফিল্ডের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে আনিছ ও তার সহযোগী বল্লভপুর গ্রামের শহীদসহ পাঁচজন মিলে বাশারকে মাদক সেবন করিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও জানান, রোববার আসামি আনিছকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ও তার চার সহযোগী পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন মর্মে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে আটক শহীদ জেলহাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে চারটি মামলা রয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে দুই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে

সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মতিউর রহমান ও পরিদর্শক কিশোর কুমার হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/এমএস