জাতীয়

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম সম্পর্কে ধারণা নেই বছিলাবাসীর

> ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম পূরণ করান না বছিলার বাসা মালিকরা> দুই থানার সীমানা রেষারেষিতে পুলিশের নজর নেই বলে অভিযোগ> ভাড়াটিয়া-মালিকদের দায়িত্ব নিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলার মেট্রো হাউজিং ও এর আশপাশের এলাকার কেউই ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমের সম্পর্কে জানেন না। অথচ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে ভাড়াটিয়াদের জন্য নিবন্ধন ফরমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বছিলাবাসীর অভিযোগ, দুই থানার সীমানা নিয়ে রেষারেষির কারণে পুলিশ এই এলাকায় কোনো নজর দেয় না, তাই বাড়ছে নানা অপরাধ।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বছিলার যে ঘরটিকে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে র‌্যাব সদস্যরা আবিষ্কার করে সেটি ভাড়া নেয়া দুই যুবকের কাছ থেকেও পূরণ করানো হয়নি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম। রাখা হয়নি তাদের আইডি কার্ড ও ছবি। জানতে চাইলে ঘরের মালিক বলেন, বছিলার একটা অংশ হাজারীবাগ থানার, আরেকটা মোহাম্মদপুর থানার। দুই থানার কেউ এ ধরনের কোনো তথ্য চায়নি।

আরও পড়ুন> স্ত্রীদের নিয়ে ওঠার কথা বলে ১৫০০ টাকায় ঘর ভাড়া নেয় তারা

জঙ্গি আস্তানার পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা রহিমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, মোহাম্মদপুর বা হাজারীবাগ থানা পুলিশের কেউই এসব চায় না, তাই আমরাও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে এগুলো নেই না।

মেট্রো হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে নির্মাণাধীন একটি ভবন মালিকের স্ত্রী পারভিন আক্তার। ভবনটি নির্মাণাধীন হলেও একটি ফ্লোরের কাজ শেষ হওয়ায় চারজনকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, পুলিশ এমন কোনো ফরম আমাদের দেয়নি, তাই আমরাও তাদের কাছে কোনো তথ্য চাইনি।

আরও পড়ুন> ‘গোলাগুলির শেষের দিকে তারাই বাড়িটি উড়িয়ে দেয়’

একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার স্ত্রী নূপুর বলেন, এর আগে আমরা যখন আজিমপুরে থাকতাম, সেখানে ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করেছিলাম। স্বামীর চাকরির কারণে এখানে আসি। বাড়ির মালিক বা পুলিশ কেউই ফরম দেয়নি। তাই আমরাও ফরম পূরণ করিনি।

ঢাকার অন্যতম আলোচিত এই কর্মসূচি সম্পর্কে ঢাকার একটি অংশের লোকজন অবগতই নয়- এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবদুল্লাহ হেল কাফি জাগো নিউজকে বলেন, ওই এলাকার যে অংশটুকু হাজারীবাগে পড়েছে তারা কেন তথ্য সংগ্রহ করেনি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও বিট পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। কারও গাফলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন> ‘হঠাৎ গুলির শব্দ এরপর দরজায় ধাক্কা, ভয়ে আঁতকে উঠি’

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, এই এলাকাটা মূলত মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ কন্ট্রোল করে। কিন্তু কাগজে-কলমে জুরিসডিকসন ছিল না। যে কারণে একটা সমস্যা চলছিল। আজ চূড়ান্তভাবে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এই এলাকার ভাড়াটিয়া-মালিক সবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় ওই জঙ্গি আস্তানার সোমবার বিকেল ৪টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযান শেষে আস্তানা থেকে দুই জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটা বিদেশি পিস্তল, অবিস্ফোরিত চারটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

জেইউ/এআর/এমএমজেড/আরএস/এমএস