যশোরে ঘুষ নিয়েও সংযোগ না দেয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীসহ চার কর্মীকে আটক করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ সময় একজন গাড়িচালক কৌশলে পালিয়ে যান।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দেড়ঘণ্টা পর তারা মুক্ত হন। বুধবার দুপুরে যশোর শহরের কারবালা মসজিদের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর রাস্তার বিদ্যুতের মেইন লাইনের সমস্যার কারণে এলাকার অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমার তৃতীয়তলা বাড়ি এবং একটি দোকানে মোট তিনটি লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাইনম্যান জালাল ফকির ২৫০০ টাকা ঘুষ নেন।
কিন্তু টাকা নিয়ে লাইন না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন আরও টাকার জন্য। এভাবে ২০-২২ জনের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার করে টাকা নিয়েছেন তারা। পরে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধভাবে চাপ দিলে তারা লাইন দিতে বাধ্য হন। কিন্তু যারা টাকা দিতে পারেননি তাদের এখনো সংযোগ দেয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন, লাইনম্যান জালাল ফকির ও জিয়াউর রহমানকে ঘণ্টা দেড়েক আটক করে রাখেন স্থানীয়রা।
তবে লাইনম্যান জালাল ফকির বলেছেন, আমি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেইনি। সংযোগ দেয়ার পর খুশি হয়ে দু’একজন চা-নাস্তা খেতে দু-একশ করে টাকা দিয়েছেন।
ওজোপাডিকোর ফিডার ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা ও ইঞ্জিনিয়ার নসিরউদ্দিন বলেন, ডিসলাইনের কারণে ওই এলাকায় ১১টা লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে ৮টি লাইনে পুনঃসংযোগ স্থাপন করা গেলেও থ্রি-ফেজ লাইনের সমস্যার কারণে তিনটি লাইনে পুনঃসংযোগ স্থাপন বিলম্ব হচ্ছিল। এতে কিছু লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তবে ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিলন রহমান/এএম/এমকেএইচ