দেশজুড়ে

জনির চিকিৎসা বন্ধ

মাত্র ২২ বছর বয়স আশিকুল জামান জনির। দূরন্তপনা এ বয়সে যেখানে সমবয়সী বন্ধুরা ঘুরে ফিরে পৃথিবীর আলো বাতাসের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে সেখানে তাকে ধুঁকতে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে বসে। গাজীপুরে শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের দিনমজুর সামাদ-মিনারা বেগম দম্পতির বড় সন্তান জনি। শ্রীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত তিনি। কিন্তু আশাহতের বিষয় তিনি মরণব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত।

নিজের জমি নেই। অন্যের জমি চাষ করে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দিনমজুর বাবা সহায় সম্বল হারিয়ে চিকিৎসার আংশিক কাজ শেষ করেছিলেন। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় না পেয়ে মাঝপথে থমকে গেছে জনির চিকিৎসা কার্যক্রম। অর্থের অভাবে জীবন প্রদীপ নিভতে বসেছে তার।

গতকাল সোমবার দুপুরে জনির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় রাস্তাবিহীন একটি ছোট্ট জলাশয়ের পাশে তিন শতাংশ জমির ওপর দুটি ঘর। একটি জীর্ণ মাটির তৈরি দু’চালা ও একটি ছাপড়া টিনের ঘর। ঘরে আসবাব বলতে একটি পুরনো খাট, চৌকি ও আলনা। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তৈজসপত্র। জনির ক্যান্সার ধরার পড়ার পর থেকে দরিদ্র পরিবারের সুন্দর গোছানো সংসারের যে ছন্দ পতন হয়েছে তার বাড়িতে গেলেই বোঝা যায়।

জনি জানায়, গত জানুয়ারি মাসে তার অন্ডকোষে টিউমার ধরা পড়ে। অর্থের অভাবে তখনই টিউমারের চিকিৎসা করাতে পারেনি সে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়লে রাজধানীর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্ডোকোষের টিউমারটির অপারেশনের পর বায়োপসি রিপোর্টে কোলন ক্যান্সারের বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছে তার ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, ঠিকমতো কেমোথেরাপি দিলে সুস্থ হয়ে উঠবে জনি।

জনির বাবা জানান, ছেলের ক্যান্সার ধরা পরার পর থেকে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে এ পর্যন্ত জনির চিকিৎসায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে তাকে মোট ৬টি ক্যামোথেরাপি দেয়া লাগবে। এর মধ্যে দুটি কেমোথেরাপি দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ক্যামো দিতে ওষুধ ও যাবতীয় খরচসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন, আবার দৈনিক ওষুধ কিনে দেয়া লাগে। আমার যে পরিমাণ আয় তা দিয়ে সংসারই চলে না। এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। টাকার অভাবে এখন বন্ধ হওয়ার পথে ছেলের চিকিৎসা। তাই সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে ছেলেকে সপে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য নাজমুল আকন্দ রনি জানান, জনির চিকিৎসা বাবদ আমরা স্থানীয়ভাবে কিছু টাকা তুলে তার বাবার হাতে দিয়েছি। সবাই এগিয়ে এলে একটি সুন্দর জীবন হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়ারে।

চিকিৎসার বিষয়ে সরাসরি জনির সঙ্গে কথা বলা যাবে ০১৬২৫৪০৪০৬৭ নম্বরে।

শিহাব খান/এমএএস/এমএস