চট্টগ্রামের নামী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের নামে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার খরুলিয়ায় অভিভাবকহীন এক পরিবারের কোটি টাকার জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি গায়ের জোরে ওই জমি স্মার্ট গ্রুপকে দখল দিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীরা অসহায় হওয়ায় নানাভাবে চেষ্টা করেও জমিগুলো উদ্ধার করতে পারছে না। সম্প্রতি সেই জমিতে স্মার্ট গ্রুপের নামে ফিলিং স্টেশন স্থাপনের চেষ্টা করায় জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন আদালত। তবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ১৪৪ ধারা অমান্য করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে দখলদাররা।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ঝিলংজার খরুলিয়া গ্রামের মৃত ছালেহ আহমদের অসহায় পরিবার।
জমির মালিকানার দাবি থেকে সরাতে উল্টো নির্মিতব্য স্থাপনার কাজে হামলার অভিযোগ তুলে প্রভাবশালীরা অসহায় পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। জমির দিকে গেলে প্রাণে মারারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া মৌজার বিএস ৪৯১ খতিয়ানের ২৩৪৭ দাগের ৩২ শতক, একই মৌজার ৬৪ খতিয়ানের ২৩৫২ দাগের ১৯ দশমিক ৮০ শতক এবং ৪ খতিয়ানের ২৬৩৪ দাগের ৩০ শতকসহ মোট দশমিক ৮১৮০ শতক জমির আরএস ও বিসএস মালিক মৃত উজির আলীর ছেলে মৃত ছালেহ আহামদ। তিনি বহুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার দুই স্ত্রী ও তিন মেয়ে ছিল। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিনি মারা যাওয়ার পর অভিভাবকহীন হয়ে যায় তার দুই স্ত্রী ও কন্যারা। এই সুযোগে ওই জমিগুলো দখল করে নেয় খরুলিয়ার মুকবুল সওদগর পাড়া এলাকার খুইল্যা মিয়ার ছেলে শামসুল আলম, মোস্তাক আহামদ, গিয়াস উদ্দীন এবং মৃত মুবিনুল হকের ছেলে সাহেব মোহাম্মদ জিকু ও মো. সিফাত।
সেই সময় ছালেহ আহমদের মেয়েরা ছোট এবং দুই স্ত্রী অভিভাবকহীন হওয়ায় জমিগুলো ভোগ দখল করতে পারেননি। এমনকি আইনি লড়াই করারও তাদের কেউই ছিল না। তবে জমিগুলো নিজেদের দখলে নিতে ব্যক্তিগতভাবে তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই প্রভাবশালীদের সঙ্গে পেড়ে ওঠেননি। এরপরও ছালেহ আহমদের স্ত্রী ও কন্যারা বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ ও নিয়মিত সন সন খাজনা আদায় করে এসেছেন।
মৃত ছালেহ আহমদের দুই স্ত্রী ও কন্যারা বলেন, বিভিন্ন সময় জমি দখল নিতে চাইলে প্রভাবশালীরা নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি রেকর্ডীয় আমাদের মালিকানাধীন জমিতে আমরা কাজ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেক শ্রমিক আহত হয়। সে সময় তারা বিরোধপূর্ণ জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমধানের আশ্বাস দিলেও অপকৌশলে কালক্ষেপণ করে। গত কয়েকদিন আগে দেখতে পাই, আমাদের মালিকানাধীন জমিতে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। শুনেছি স্মার্ট গ্রুপ নামে একটি কোম্পানিকে এ জমি ভাড়া দেয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালত কাগজপত্র দেখে গত ১৩ মে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
তারা আরও বলেন, বিষয়টি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কক্সবাজার সহকারি কমিশনার (ভূমি) এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশকে অমান্য করেই স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে তারা। বুধবার কাজে বাধা দিতে গেলে জবর দখলকারী ও ভাড়াটে কোম্পানির লোকজন মিলে আমাদের উপর হামলা ও পরিকল্পিত কিছু ভাঙচুর করে। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
তাদের দাবি, জবর দখলকারীরা জমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারলে তারা আর জমির মালিকানা দাবি করবে না। কিন্তু দখলদাররা কাগজপত্র নিয়ে বসতে বললে আর আসে না। আমরা অসহায় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা ক্ষমতাবান বলে আইনকে তোয়াক্কাও করে না। গায়ের জোরেই তারা সব করতে চায়। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মুখের কথা ভিত্তিহীন। কাগজে কলমে মালিকানা নিশ্চিত হয়। তাই ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত ছালেহ আহমদের বড় স্ত্রী মুর্তজা বেগম, ছোট স্ত্রী মরিয়ম খাতুন, মেয়ে শাহিন আকতার, ছেনোয়ারা বেগম ও জেসমিন আকতারসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, দুই গ্রুপের দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে জানা ছিল না। যাছাইয়ের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমকেএইচ