ভৈরবের সরকারি খাদ্যগুদামে চাল কেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু হয়নি। খাদ্য বিভাগের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখনও তালিকা পাওয়া যায়নি। এ কারণে কৃষকের উৎপাদিত ধান কেনা শুরু করা যায়নি।
কৃষি অফিস বলছে, তালিকা করতে একটু সময় লাগে তাই বিলম্ব হলেও আগামীকালের মধ্যে তালিকা দেয়া হবে। এদিকে ভৈরব বাজারে প্রতি মণ ধান ৪৫০/৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দামে ধান বিক্রি করে কৃষকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভৈরব উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে এবার বোরো আবাদের এক হাজার ৭৯১ টন চাল ও ১৮৪ টন ধান কেনার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। স্থানীয় ১৫টি রাইস মিলমালিক এবার গুদামে সরকার নির্ধারিত দামে চাল সরবরাহ করবেন। ইতোমধ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলগুলো চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে জানান গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
সরকার এ মৌসুমে প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৬ টাকা এবং ধান ২৬ টাকা। এ মূল্য অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের মূল্য হয় এক হাজার ৪০ টাকা। সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকরা ধান দিতে পারলে লাভবান হবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত ভৈরবের খাদ্যগুদামে ৬০০ টন চাল রাইসমিলগুলো থেকে কেনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালও মিলমালিকরা সরবরাহ করবেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস আরও জানায়, ভৈরবে এবার ছয় হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩৫ হাজার ২০০ টন বোরো ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্ত ভৈরব খাদ্যগুদামে এবার মাত্র ১৮৪ টন ধান সরকারিভাবে কেনা হবে যা উৎপাদনের তুলনায় খুবই কম।
এদিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহের জন্য ৩৩৩ জনের একটি তালিকার কাজ শনিবার শেষ হয়েছে। এসব কৃষক ১৮৪ টন ধান গুদামে সরবরাহ করবেন।
ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আলম শরীফ খান জানান, সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এবার ৩৩৩ জন কৃষক ১৮৪ টন ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করবেন। তালিকা করতে বিলম্ব কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুদামে কারা ধান দিতে আগ্রহী এবং কোন কৃষকের ধান কাটা শেষ হয়েছে- এসব মাঠপর্যায় থেকে জানা হয়। এসব তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি বলেন, ভৈরবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাহলে কৃষকরা গুদামে ধান সরবরাহ দিয়ে লাভবান হতো।ভৈরব উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, চাল কেনা শুরু হলেও কৃষি অফিস থেকে এখনও কৃষকের তালিকা না পাওয়ায় ধান কেনা শুরু হয়নি।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন জানান, কৃষি অফিস থেকে ৩৩৩ জন কৃষকের তালিকা এই মাত্র আমার বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী কৃষকরা সরকারি খাদ্যগুদামে ১৮৪ টন ধান সরবরাহ করবেন। তালিকাটি আগামীকাল রোববার আমার অফিস থেকে ভৈরব খাদ্যগুদামে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএআর/এমকেএইচ