কৃষি ও প্রকৃতি

ডুমুরিয়ায় তরমুজ চাষে লাভবান কৃষকরা

গ্রামের ভেতরের গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে এগোতে এগোতে হঠাৎ একখণ্ড সবুজের সমারোহ চোখে পড়ার মতো। সেখানে একপা-দু’পা হেঁটেই দেখা গেল তরমুজের ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। তরমুজ তুলে জড়ো করছেন কৃষক। স্তূপ করে রাখছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজনেরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দাম কষাকষির মাধ্যমে চূড়ান্ত করছেন। ওই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তরমুজ চাষিরা খেত থেকে তরমুজ তুলে বিক্রি করার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন।

এ চিত্র খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের তক্তামারি গ্রামের। স্থানীয়রা বলছেন, এবারই সর্বপ্রথম বেশি পরিমাণে তরমুজ চাষ করা হয়েছে এ উপজেলায়। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে তক্তামারি গ্রামে। কৃষকেরা বলছেন, এ মৌসুমে তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় তাদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। তাই তারা প্রতিবছরই তরমুজের চাষ করবেন বলে আশা রাখেন।

সবুজ সোনার আশায়, আমন ধান কাটা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে তরমুজ লাগানোর প্রস্তুতি। বার বার চাষ দিয়ে দ্রুত মাটি শুকিয়ে রোপণ করা হয় তরমুজের বীজ। কৃষকরা মনে করেন, আগে লাগালে আগে তরমুজ পাওয়া যায় এবং ভালো দামে বিক্রি করা যায়। এ ধারণা থেকেই উপজেলার কৃষকের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে। তাই নারী-পুরুষ সবাই মিলে সারাদিন শ্রম দিচ্ছে তরমুজ ক্ষেতে।

> আরও পড়ুন- কম খরচে ভুট্টা চাষে সফল জীবক চাকমা

ডুমুরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৫০ মেট্রিক টন। বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মতো। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২০ মেট্রিক টন। যার মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

উপজেলার তক্তামারি গ্রামের সবচেয়ে বড় তরমুজ চাষি কামাল বাওয়ালী (৪০) নিজের ও অন্যের জমি মিলিয়ে মোট সাত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মৌসুমের আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকার মহাজনেরা তরমুজ নিতে চলে আসেন। ফলনের পর তরমুজ সংগ্রহ করতে এলাকায় অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে মহাজনদের কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি।’

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ১৪ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করতে ব্যয় হয় ১০-১২ হাজার টাকার মতো। ফসল ভালো হলে বিক্রি হয় প্রতিবিঘা ১ লাখ টাকারও বেশি। লাভের আশায় পরিশ্রম করে মাত্র ৬০ দিনের ফসল করছেন তারা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা কাজ করছেন। পরিশ্রম করতে পারলে অনেক টাকা লাভ হবে।

> আরও পড়ুন- ভুট্টার অ্যাপ ব্যবহার করে সফল শতাধিক নারী

কৃষি অফিসের হিসাবমতে, তরমুজ চাষে এক হেক্টর জমিতে খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকার একটু বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তরমুজ উৎপাদন হবে কমপক্ষে ৩০ মেট্রিক টন। সর্বনিম্ন ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে হবে প্রায় ৯ লাখ টাকা। তাই তরমুজে লাভবান বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন তরমুজ চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের সেচ খরচ কম হয়েছে। তবে নিচু জমিতে পানি জমে একটু ক্ষতি হলেও ফলন ভালো ও বড় আকারের তরমুজ ফলনে চাষিরা লাভবান হবে। লবণাক্ত এসব জমিতে পাকিজা, সুইট ড্রাগন ও প্রাউন্ড জাতের তরমুজ ভালো হয়। তাই কৃষকরা বীজতলা তৈরি করে এসব জাতের বীজ রোপণ করছেন।’

আলমগীর হান্নান/এসইউ/পিআর