খেলাধুলা

‘বিশ্বকাপে বড় রান তাড়া করতে প্রস্তুত আমরা’

বিশ্বকাপের খেলা হবে ইংল্যান্ডে, যেখানে তার পারফরম্যান্স দলের অন্য যে কারোর চেয়ে ঢের ভালো। সেই ২০১০ সালে স্বাগতিক বোলারদের তুলোধুনো করে পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু, যার শেষটা ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার মাধ্যমে। স্বভাবতই আসন্ন বিশ্বকাপেও তার প্রতি দলের থাকবে বাড়তি প্রত্যাশা, যা হয়তো চাপ সৃষ্টি করতে পারে দেশসেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের জন্য।

তবে তামিম নিজে অবশ্য ভাবেন না এসব নিয়ে। অতীতে কী করেছেন, ব্যাটিং কেমন হয়েছে, সাফল্যই বা কতটুকু- এসবকে নিজের ভাবনায় জায়গা দিতে নারাজ ড্যাশিং এ ওপেনার। এর চেয়ে বরং শূন্য থেকে শুরু করে বিশ্বকাপকে আলাদাভাবে স্মরণীয় করে রাখার ইচ্ছাটাই প্রচণ্ড তামিমের।

বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমি একটা ফোঁটাও ভাবি না যে, আমি ইংল্যান্ডে ভালো করেছি। আমার কাছে মনে হয় যে, যদি আমি এগুলো ভাবি, সেটা আমাকে একটুও সাহায্য করবে না। আমি শুধু এতটুকু জানি যে, কাজটা সহজ হবে না। আরও বেশি কঠিন হবে যদি আমি বিশ্বকাপে সফল হতে চাই। আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। তাই আগে কি করেছি ইংল্যান্ডের মাটিতে, সেটা নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবি না। এটা অতীত হয়ে থাকুক, সেটাই আমি চাই। ভালো করি বা না করি, আমি কখনো পেছনের জিনিস নিয়ে চিন্তা করতে চাই না। যেটা বর্তমানে আছে, সেটা নিয়েই আমাকে ভাবতে হবে। আর একটা জিনিস আমি জানি, আমি যদি বিশ্বকাপে সফল হতে চাই, তাহলে আমাকে প্রচন্ড কষ্ট করতে হবে এবং মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সেটা করতে হবে।’

সে লক্ষ্যে নিজের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট তামিম, ‘নিজের প্রস্তুতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমার মূলতঃ যে জিনিসটা বেশি দরকার ছিল, ব্যাটিংয়ের চেয়েও বেশি সেটা হলো ফিজিক্যাল ফিটনেস। আমি যে লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলিনি, আমার মনে হয় সেই লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে।’

‘কোন লক্ষ্য নয়, কোন কিছু না। কারণ আমার কাছে মনে হয় যে আমি যখনই কোন কিছু নিয়ে বেশি ভাবি, তখন আমার সেটা পাওয়া হয় না। তাই আমি এটা নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি নেই, এই নেই, সেই নেই- আমি সবই জানি। এখন এটা তো আমি চেঞ্জ করতে পারবো না। এই বিশ্বকাপে যদি আমি এটাই টার্গেট করে যাই যে একটা সেঞ্চুরি করতে হবে বা খুব রান করতে হবে, তাহলে আমি আসলে অপ্রয়োজনীয় চাপ নিবো আমার ওপরে। আমি এটা একদমই চাই না। আমার চিন্তার জন্য আরও অনেক কিছু আছে। যেমন ধরেন, দল আমাকে যে রোলটা দিবে, সেই রোলটা যদি আমি পালন করতে পারি, নিজের দায়িত্বটা যদি আমি ভালোভাবে পালন করি, তাহলেই সুযোগ আসবে বড় ইনিংস খেলার। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, দলকে একটা ভালো শুরু এনে দেয়া এবং যে রোলটা দেয়া হয়েছে সেটা ভালোভাবে পালন করতে পারা’- নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলের চাহিদা পূরণ করার দিকেই বেশি মনোযোগ অভিজ্ঞ এ ওপেনারের।

দলের প্রয়োজনে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচেও পরিবর্তন আনার কথা বলেন তামিম, ‘দেখেন এই একটা জিনিস যেটায় আমরা খুব একটা অভ্যস্ত নই, চেজ করতে হবে ৩৪০-৩৫০ রান। সাথে এটাও আমরা জানি যে, বিশ্বকাপে হয়তো বেশিরভাগ ম্যাচেই আমাদের ৩০০-৩২০ চেজ করতে হবে। তো আপনাকে সে অনুযায়ীই এগুতে হবে। আমরা পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করবো যদি সুযোগ আসে, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।

আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে যে আমাদেরকে বড় রান তাড়া করতে হবে। আমার মনে হয়, ৩০০ রানে কোন প্রতিপক্ষকে আটকাতে চাইলেও বোলারদেরকে খুব ভালো বল করতে হবে। দুয়েকটা দিন ব্যতিক্রম যেতে পারে, যেদিন আপনি ২৪০-২৫০ রানে অলআউট করে দিতে পারেন। আমার কাছে মনে হয়, ইংল্যান্ডে ৩০০ রান তাড়া করা কঠিন হবে না। সো এটার জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের অতীত পরিসংখ্যান ঘেটে দেখলে হয়তো দেখা যাবে, আমরা খুব বেশি এরকম রান তাড়া করিনি। তার অনেক বড় কারণ হলো, আমরা যেখানে খেলি, সেখানে ৩০০ রান খুব বেশি হয় না। আশা করবো যে প্ল্যানটা আমাদেরকে দেয়া হবে, সেই প্ল্যানটা ভালোভাবে এক্সিকিউট করতে পারবো আমরা।’

এসএএস/আইএইচএস/জেআইএম