অর্থনীতি

শেয়ারবাজার চাঙা রেখে ঈদে বিনিয়োগকারীরা

ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের দেখা মিললো। ধুঁকতে থাকা শেয়ারবাজারে ঈদের আগে এমন চাঙাভাব ফিরে আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে বিনিয়োগকারীদের।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২ থেকে ৮ জুন শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে। আর ৩১ মে ও ১ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় এ দুই দিনও লেনদেন বন্ধ থাকবে। ফলে ঈদের আগে বৃহস্পতিবারই ছিল শেয়ারবাজারের শেষ লেনদেন কর্যদিবস। টানা ৯ দিন বন্ধ থাকার পর ৯ জুন থেকে আবার লেনদেন শুরু হবে।

ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে মূল্য সূচকের বড় উত্থানের দেখা মিললেও শুরুটা ভালো ছিল না। লেনদেনের প্রথম ৭ মিনেটেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট কমে যায়। কিন্তু শেষ আধাঘণ্টার লেনদেনে সূচকটি টানা ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে দিনের লেনদেন ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানো, আইপিও এবং প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ এবং ঈদকেন্দ্রীক শেয়ার বিক্রির চাপ কমে আসায় বাজারে চাঙাভাব ফিরে এসেছে। সম্প্রতি যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে সামনে বাজার আরও ভালো হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়শনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, রোজার মাঝামাঝিতে ঈদের খরচের জন্য শেয়ার বিক্রির এক ধরনের চাপ ছিল। শেষ সময়ে এসে ঈদ কেন্দ্রীক শেয়ার বিক্রির সেই চাপ কমেছে। শেয়ার বিক্রির চাপ কমায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কার ও নীতি-সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাজেটেও বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হবে বলে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। আশা করছি শেয়ারবাজারে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধান মূল্য সূচকের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অপর দুটি মূল্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা পেয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দুই পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৪ পয়েন্টে।

মূল্য সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১১৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টির দাম।

বিনিয়োগকারী মো. সোহাগ হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরেই শেয়ারবাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। গত তিন কার্যদিবসে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলেছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ঈদের পর বাজার কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। যদিও বিভিন্ন পক্ষ থেকে শোনা যাচ্ছে বাজেটের পর বাজার ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন সেই আশা নিয়েই ঈদ করতে গ্রামে যাবো।

খায়রুল নামের আর এক বিনিয়োগকারী বলেন, তিন মাসের বেশি সময় ধরে বাজার খরাপ। এতে আমার যেসব শেয়ার কেনা আছে, সবগুলোতেই লোকসান। গত তিন দিনের উত্থানে লোকসান কিছুটা কমলেও, পুরোপুরি লোকসান কাটেনি। ঈদের পর কিছুদিন বাজার এমন ভালো থাকলে লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি।

এদিকে মূল্য সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৯২ কোটি তিন লাখ টাকা।

এদিন বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে জেএমআই সিরিঞ্জ এবং ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ন্যাশনাল লাইফ।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ফরচুন সুজ, এসকে ট্রিমস, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, ডরিন পাওয়ার এবং নিউ লাইন ক্লোথিংস।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯১৬ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি এক লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির।

এমএএস/এএইচ/পিআর