দেশজুড়ে

রাব্বানীর প্র‌তিশ্রু‌তি রক্ষায় অংশ নি‌লেন নিউটনও

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেমের ৪১৩টি হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রোববার বিকেলে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এসব হাঁসের দেয়া ডিমের উপার্জনে শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেম সংসার চালাতেন। মরে যাওয়া হাঁসের বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিল। আবুল কাশেমের এতগুলো হাঁস মেরে ফেলায় রীতিমতো পথে বসেছেন তিনি।

এ ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানান আবুল কাশেম। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদ চোখে পড়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের। এ অবস্থায় খামারি আবুল কাশেমের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার কথা জানানো হয়।

খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার কথা জানিয়ে রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেন। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের খামারি আবুল কাশেমের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবন্ধী খামারি আবুল কাশেমের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিউটন মোল্লা।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে খামারি আবুল কাশেমের বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন নিউটন মোল্লা।

সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিউটন মোল্লা বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস দেখে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। রাব্বানীর পরামর্শে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে খামারি আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০০ হাঁসের দাম ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়েছি। মূলত মানবিক কারণে তার পাশে দাঁড়িয়েছি আমি।

১০০ হাঁস কেনার টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবন্ধী খামারি আবুল কাশেম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা নিউটন আমাকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রলীগ নেতারা আমাকে হাঁস কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। আমি এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে চলতে পারব। ছাত্রলীগ আমাকে সহযোগিতা করেছে, বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ১৭০০ হাঁসকে হাওরের পরিত্যক্ত খাবার খেতে ছেড়ে দেন খামারি আবুল কাশেম। তখন বাড়ির খামার থেকে বেরিয়ে পাশেই অন্যের একটি পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে কিছুক্ষণ খাবার খায় অধিকাংশ হাঁস। খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট পরই হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। ওই ধানক্ষেতে কেউ শত্রুতা করে বিষ দিয়ে রেখেছিল। এজন্য হাঁসগুলো এক এক করে মারা যায়।

খবর পেয়ে খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম। শারীরিক প্রতিবন্ধী কাশেম ভাই কায়িক শ্রমের কাজ করতে পারেন না বলেই মোটা সুদে ঋণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছিলেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। বিধি বাম। দুর্বৃত্তদের প্রয়োগ করা বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন প্রায় ৮০০ হাঁস। আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার অসহায় আবুল কাশেম ভাইয়ের পাশে দাঁড়াব। সারা দেশের লাখ লাখ ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে আমরা ৮০০ কর্মী যদি একটি করে হাঁসের দায়িত্ব নিই, কাশেম ভাইয়ের পরিবার আবার বাঁচার অবলম্বন পাবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আজ কথা বলেছি তার সঙ্গে। আমরা সবাই মিলে কাশেম ভাইয়ের পাশে থাকব। দ্রুত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’

এএম/এমকেএইচ