জাতীয়

বাজেটের ওপর চলছে নজিরবিহীন বক্তব্য, ভাঙছে রেকর্ড

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে চলছে মন্ত্রী-এমপিদের নজিরবিহীন বক্তব্য। ভাঙছেন সব রেকর্ড। অধিকাংশই সংসদ সদস্য মানছেন না সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি। বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের বদলে প্রাধান্য পাচ্ছে বিশেষ ব্যক্তি ও দলের স্তুতি। বাজেটের ওপর যত না গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি সমালোচনা করা হচ্ছে প্রতিপক্ষের। আর বিধি ভেঙে অধিকাংশ এমপি লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন। কিন্তু নিচ্ছেন না স্পিকারের অনুমতি।

মঙ্গলবার বাজেটের ওপর রেকর্ডসংখ্যক বক্তা বক্তব্য রাখেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণ, আজ কাউকে আমি বরাদ্দের অতিরিক্ত সময় দিতে পারব না। কেননা, আজ বাজেটের ওপর রেকর্ডসংখ্যক ৫২ বক্তা বক্তব্য রাখবেন। সে কারণে আপনারা বুঝতে পারছেন কাউকে আমার পক্ষে চিপ হুইপ দ্বারা বরাদ্দকৃত সময়ের (লিস্টে দেয়া সময়) অধিক সময় দেয়া সম্ভব হবে না। আশা করি, সবাই নির্দিষ্ট সময়ে বক্তব্য শেষ করবেন।’

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ওপর একদিন ৪২ জনের বক্তব্য দেয়ার রেকর্ড রয়েছে।

গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হয়। বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। সংসদে ১৬ ও ১৭ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

গত ১৮ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য শুরু হয়। ওইদিন বক্তব্য রাখেন ১০ এমপি-মন্ত্রী, ১৯ জুন ১৫ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২২ জুন ২২ জন, ২৩ জুন ২৬ জন ও ২৪ জুন ১০ জন। আজ সর্বোচ্চসংখ্যক ৫২ জন (মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও এমপি) বক্তব্য রাখবেন বলে একটি তালিকা পাওয়া গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত বক্তার সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে।

গত বছর সম্পূরক বাজেটসহ মোট বাজেটের আলোচনায় ২২৩ এমপি অংশ নেন। তারা মোট ৫৫ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট আলোচনা করেন। অথচ এই বছর গতকাল পর্যন্ত বাজেটের ওপর ১৬৮ জন প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। আজ কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বক্তব্য রাখবেন তারা। এছাড়া আগামীকাল বুধবার, তার পরের দিন বৃহস্পতিবার ছাড়াও আগামী শনিবার বাজেট পাসের দিন এর ওপর আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, এবার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বাজেট বক্তৃতার সব রেকর্ড ভঙ্গ হবে। সবাই বক্তব্য দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। কিন্তু সময় কম হওয়ায় আমরা সংসদ পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের ওপর গত ২৪ জুন পর্যন্ত মোট ১১২ জন বক্তব্য রাখেন, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯১ জন- ২২ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট, ওয়ার্কার্স পার্টির ৪ জন ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট, জাসদ (ইনু) ২ জন ৩৪ মিনিট, বিকল্পধারা বাংলাদেশের একজন ১১ মিনিট, জাতীয় পার্টির ৭ জন ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিট, বিএনপির চারজন ৫২ মিনিট, গণফোরামের দুজন ২৪ মিনিট এবং স্বতন্ত্র সদস্য একজন ১১ মিনিট বক্তব্য রাখেন। আজ মঙ্গলবার ৫২ জন বক্তাকে ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় দেয়া হবে। যদিও এ সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

সংসদের কর্মকর্তারা জানান, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদে কেউ লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে পারেন না। কেউ লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকারের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় সবাই লিখিত বক্তব্য রিডিং পড়ার মতো করে সংসদে পড়ছেন। কিন্তু কেউ অনুমতি নিচ্ছেন না। এর আগের বছরগুলোতে দু-একজন অনুমতি নিলেও এবার একজনকেও অনুমতি নিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদে অনেকেই সংসদীয় রীতিনীতি জানেন না। সময় পেলেই আমি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেই। আশা করি, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।

সংসদে মাত্র বিএনপির ছয়জন এমপি রয়েছেন। কিন্তু তাদের বক্তব্য দেয়ার সময় সরকারি দলের এমপিরা হৈ চৈ করে বাধা দেন। এমনকি সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরাও।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি সংসদে কথা বলার জন্য দাঁড়ালেই সরকারদলীয় তিনশ এমপি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের কথা বলবে। কিন্তু আমি উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, ৩০০ সদস্য যদি মারমুখী হয়ে যায় তাহলে আমি আমার বক্তব্য কীভাবে রাখব? এটা কোনো সংসদীয় রীতি হতে পারে না।’

এইচএস/জেএইচ/পিআর