তথ্যপ্রযুক্তি

সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফেসবুক-ইউটিউবে সরকারের হস্তক্ষেপ

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশাল মিডিয়ায় গুজবসহ যেকোনো তথ্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা সরকার আগামী সেপ্টেম্বরেই অর্জন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেছেন, সরকার এখন যেকোনো ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমরা ফেসবুক, ইউটিউবে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা অর্জন করব।

শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

পরে রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের একটি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় একটি মেয়ে রাস্তায় হাফপ্যান্ট পরে হেঁটে গেলে তা সমস্যা না। তবে আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড এক না। বাংলাদেশে এমন অবস্থা সম্ভব না। তাই আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডে না, বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের পোস্ট এখানকার স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করলেও ফেসবুক-ইউটিউবে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা এতদিন আসেনি, যা একটি সমস্যা ছিল সরকারের জন্য। সমস্যা হচ্ছে যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়, অথবা ভিডিও প্রচার করা হয়, সেই ক্ষেত্রে তা্ৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর কারণ হচ্ছে, বিশেষ করে ফেসবুক বা ইউটিউব-এই দুটি প্রতিষ্ঠানই মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এটা তাদের আমেরিকান কমিউনিটির স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করে থাকে। আমরা সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’

‘আপনাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাস অতিক্রম করার পরে আমরা এই ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা অর্জন করব। অর্থাৎ কেউ ইচ্ছে করলেই যা খুশি তাই সোস্যাল মিডিয়াতে ব্যবহার করতে পারবে না, প্রচার করতে পারবে না’-যোগ করেন মন্ত্রী।

অর্থাৎ এতদিন ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে কোনো তথ্য আটকাতে হলে পুরো অ্যাপটিই বন্ধ করতে হতো সরকারকে, সেপ্টেম্বরের পর তা না করে যে তথ্য আটকাতে চায়, শুধু তা আটকে দিতে পারবে সরকার।

মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ সোশাল মিডিয়ায় গুজব বা ভুয়া তথ্যের সমস্যার দিকটি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব এটি একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা তা নয়। কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলাম কদিন আগে, সেখানেও মূল আলোচ্য ছিল, কীভাবে এই গুজব প্রতিরোধ করা যায়।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, মানুষের অধিকার অবারিত থাকুক। কিন্তু মানুষের অবারিত অধিকার চর্চা করতে গিয়ে যেন অন্যের অধিকার খর্ব না হয়, কিংবা অন্যের ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব না হয়, কিংবা রাষ্ট্রে হানাহানি সৃষ্টি না হয়, সমাজে অস্থিরতা না হয়, সেটা আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

এসআর/জেআইএম