লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকায় মারা যান ইমরান খান সুজন নামে এক বাংলাদেশি। ১১ মাস পর অবশেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছেছে।
রোববার (৩০ জুন) সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুরে গ্রামের বাড়িতে আনা হয় তার মরদেহ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ।
নিহত ইমরান উপজেলার কেদারপুর গ্রামের আবদুল মান্নান খানের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমরানই বড়।
ইমরান খান সুজনের ছোট ভাই শোভন খান জানান, ২০১৮ সালের মার্চে দালালের প্রলোভনে সুদানে পাড়ি জমান ইমরান। পরে সেখান থেকে লিবিয়া যান। ছয় মাস পর গত বছরের ২৯ আগস্ট লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিসিয়া উপকূলের কাছে পৌঁছানোর আগে তাদের বহনকারী নৌকার তেল এবং সঙ্গে থাকা পানি ও খাবার ফুরিয়ে যায়। পাঁচদিন পর অন্যান্যদের সঙ্গে ইমরানও খাবার না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নৌকাতেই মারা যান। পরবর্তীতে তাদের নৌকাটি ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ মাল্টায় পৌঁছালে মৃত ও জীবিতদের উদ্ধার করে দেশটির কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
এরপর ইমরানের মরদেহ মাল্টার মর্গে রাখা হয়। তিন মাস পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। নড়িয়ার ইতালি প্রবাসীরা ইমরানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ইমরানের মরদেহ দেশে আনা ব্যয়বহুল হওয়ায় স্বজনরা এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় ১১মাস মর্গে পড়ে থাকার পর ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় মাল্টার মর্গ থেকে তার মরদেহ শুক্রবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর আজ (রোববার) সকাল ৯টার দিকে মরদেহ শরীয়তপুরে ইমরানের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বেলা ২টার দিকে নামাজে জানাজা শেষে নড়িয়া মুলফৎগঞ্জ মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে ইমরানকে যারা ইতালি যাবার প্রলোভন দেখিয়ে নৌকায় তুলেছিল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তার ভাই শোভন খান।
মো. ছগির হোসেন/এমএমজেড/জেআইএম